
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছর মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট চারশ তেত্রিশ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে আরও ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
রোগতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেષণে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই জন করে প্রাণ হারিয়েছিলেন। এরপর মার্চ এবং এপ্রিল মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পরবর্তীতে মে মাসে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং জুনে তেরো জন, জুলাইয়ে ছত্রিশ জন এবং আগস্ট মাসে তেতাল্লিশ জন মারা যান।
শরৎকালের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাফে একশ আটচল্লিশ জনে পৌঁছায় এবং অক্টোবর মাসে তা আরও বেড়ে একশ চৌহাত্তর জনে দাঁড়ায়।
চলতি নভেম্বর মাসের বর্তমান সময় পর্যন্ত চৌদ্দ জন রোগীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এই ধারাবাহিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বছরজুড়ে ডেঙ্গুর মারাত্মক প্রভাবের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মৃত্যুর পাশাপাশি গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নতুন ভর্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য চিত্র দেখা গেছে। এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট এক হাজার নয়শ সত্তর জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন হওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি নয়শ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রকোপ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাধীন হওয়ার দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে নতুন করে দুইশ চুরানব্বই জন রোগী হাসপাতালে শরণাপন্ন হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগেও রোগীর সংখ্যা বেশ বেশি, যেখানে গত চব্বিশ ঘণ্টায় দুইশ বায়ান্ন জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে নতুন ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ছিল একশ তিরাশি জন।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে একশ তিপ্পান্ন জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে এই সংখ্যাটি ছিল পঁচানব্বই জন।
তুলনামূলকভাবে কম হলেও রংপুর ও সিলেট অঞ্চলেও রোগী ভর্তির খবর রয়েছে। রংপুর বিভাগে একাত্তর জন এবং সিলেট বিভাগে বাইশ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা