
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চাঁদপুরে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একত্রে বসবাস করে আসছেন বলে জানিয়েছেন বক্তারা। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তাদের সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনের নানাবিধ বিতর্কিত ও দেশবিরোধী ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রমের একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি বলে বক্তারা দাবি জানান।
একইসঙ্গে চাঁদপুর শহরের মুনসেফপাড়া এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী মহাপ্রভু নীলাচল মন্দিরের বর্তমান কার্যক্রম, ভৌগোলিক অবস্থান, সরকারি অনুমোদন এবং এর সঙ্গে জড়িত সব আইনি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়। এসব বিষয় যাচাই করে প্রশাসনকে দ্রুত যথাযথ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তারা।
গত ২০২৪ সালে ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের আদালত চত্বর এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনাটিও বক্তারা স্মরণ করেন।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ধর্মীয় সংগঠনের আড়ালে দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান কিংবা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বলে তারা জোরালো দাবি তোলেন।
উত্থাপিত এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোতে হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা