
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের জ্যেষ্ঠ পুত্র নূরুজ্জামান মিন্টুকে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নতুন করে দুই দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
আদালত ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় নূরুজ্জামানকে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। এই সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তদন্তের স্বার্থে আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া আবশ্যক বলে আদালতকে জানান এই তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার ও মাহবুব হোসেন রিমান্ড আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, ইতিপূর্বে এই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সেই সময় কোনো কার্যকর তথ্য মেলেনি, তাই তাকে পুনরায় রিমান্ডে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারক নূরুজ্জামানকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন যে, রিমান্ডে নেওয়ার আগে এবং পরে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং উচ্চ আদালতের সব নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার পরপরই তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রোববার রাতের দিকে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় নীল-সাদা রঙের ওই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। কোনো ধরনের নিবন্ধন বা কাগজপত্রহীন গাড়িটির ডান পাশে আঘাতের বা ভাঙার চিহ্ন রয়েছে, কারণ ঘটনার সময় এটি সড়কে পড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে এই বাইকটির প্রকৃত মালিক কে, তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে এসআই শফিকুল ইসলাম আরও জানান যে, এই মামলার তদন্তে বেশ ভালো রকমের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। প্রবাসী রাসেল হোসাইন এবং এই মামলার অন্যতম আসামি মিন্টুকে ঘিরে যত ধরনের সন্দেহ রয়েছে, তার প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, খুব দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।