
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশি ডাক বিভাগের বিশাল নেটওয়ার্ককে যুগোপযোগী করে ই-কমার্স, পার্সেল পাঠানো এবং সমন্বিত লজিস্টিকস সেবার কার্যকর হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দুই রাষ্ট্র যৌথভাবে কাজ করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
সরকারি কর্মকাণ্ডে ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতির বিস্তার ঘটানো, রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ফকির মাহবুব আনাম মনে করেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জনসেবার মান উন্নত করতে, সরকারি কাজের গতি বাড়াতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে সক্ষম।
এই সমস্ত খাতে সিঙ্গাপুর সরকারের সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং যৌথ কার্যক্রম হাতে নেওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার ইচ্ছার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোক। তিনি দেশটির সুবিশাল ডাক বিভাগের কাঠামোকে ব্যবহার করে অনলাইন বাণিজ্য, পার্সেল সেবা ও লজিস্টিক খাতের সার্বিক অগ্রগতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
একই সঙ্গে সরকারি সেবা খাতে অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সফল অভিজ্ঞতাগুলোর কথা তুলে ধরেন ডেরেক লোক।
রাষ্ট্রদূত ডেরেক লোক চিকিৎসাসেবা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফলপ্রসূ ব্যবহারের নানা সম্ভাবনার দিকগুলোও তুলে ধরেছেন।
আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে দেশের তরুণ সমাজকে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ে সিঙ্গাপুর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
উভয় পক্ষই ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তির নবায়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং জনসেবা খাতের আধুনিকায়নে দুই দেশের অংশীদারত্ব বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বৈঠকে স্বীকার করেছেন।
তাদের মতে, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এই ক্ষেত্রগুলোতে বাস্তবসম্মত যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব।
উক্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিলিপ ওং, ডেস্ক কর্মকর্তা ম্রিথিনি টিজিট্রিথারান এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের উন্নয়ন অংশীদার বেঞ্জামিন চু উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা