
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে উচ্চ আদালত যে জামিন দিয়েছিলেন, তা বহাল রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনের আদেশ স্থগিত করার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। কিন্তু চেম্বার আদালত সেই আবেদনে কোনো আদেশ বা নো অর্ডার প্রদান করেছেন।
আজ সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই সিদ্ধান্ত দেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আবেদনটি নিষ্পত্তি করার মাধ্যমেই মূলত এই আদেশ দেওয়া হয়।
এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাইরে আসতে এখন আর কোনো ধরনের আইনি বাধা অবশিষ্ট নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
নিম্ন আদালতে জামিন পেতে ব্যর্থ হওয়ার পর আখতারুজ্জামান উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এবং সেখানে জামিনের আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষেই হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার পাশাপাশি রুল জারি করেছিলেন গতকাল রোববার।
উচ্চ আদালতের দেওয়া সেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ স্থগিত চেয়ে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যায় এবং আজকের কার্যতালিকা অনুযায়ী বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতের এই শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক, যাঁরা সে সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
অন্যদিকে আদালতের কাঠগড়ায় জামিনপ্রার্থী আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএস আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করেছিল।
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোল বাঁধানো, সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং এক নিরাপত্তা কর্মীকে লাঞ্ছিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ১ অক্টোবর রাতে বিমানবন্দর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁর একদিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর নিচ আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে যান।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় বাড়ি অবস্থিত এই নেতার রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
তিনি একসময়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত টকশো কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন।
এই নানামুখী ঘটনার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।