
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জিন্নী হুজুরের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর নিবাসী রোকেয়া বেগমকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারী মুঠোফোনে কল দেন।
ওই নারী ফোনালাপে দাবি করেন, রোকেয়া বেগমের অসুস্থ সন্তানকে একজন কথিত জিন্নী হুজুর সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার অলৌকিক ক্ষমতা রাখেন।
তবে এই অলৌকিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখতে হবে বলে জানানো হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রোকেয়া বেগমকে ভয়ভীতি দেখান যে, এই বিষয়ে যদি তিনি কাউকেও কিছু জানান, তবে তাঁর অসুস্থ ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
সন্তানকে সুস্থ করে তোলার তীব্র বাসনা ও আশার বশে প্রতারক চক্রের কথায় সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেন অসহায় ওই নারী।
প্রতারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি তাঁর নিজ বসতঘরের পেছনের আঙিনায় অবস্থিত ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটি স্থাপন করেন।
সেই বাটির ভেতরে তিনি নিজের মূল্যবান স্বর্ণালংকারগুলো চিকিৎসার শর্ত হিসেবে রেখে আসেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বর্ণালংকার রাখার দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর তিনি পুনরায় ওই স্থানে গিয়ে দেখতে পান যে, বাটিতে রাখা অলংকারগুলো আর সেখানে নেই।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের শরণাপন্ন হলে প্রশাসন তদন্ত শুরু করে এবং প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত এই চার অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের বাসিন্দা করবুল নেছা (৬০)।
এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অপর অভিযুক্ত হলেন একই উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫)।
এ ছাড়া এই প্রতারণা চক্রের সদস্য হিসেবে জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্যকে (৪৮) আটক করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন জুড়ী উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়া (৩৮)।
সূত্র: আজকের পত্রিকা