
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে বখাটে কর্তৃক উত্ত্যক্ত করার ঘটনার প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত এক তরুণ ও তাঁর বাবাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার সকালে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ প্রশাসন, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার বখতারমুন্সি শেখ শহীদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রী নিয়মিত পড়াশোনার উদ্দেশ্যে কলেজে যাতায়াত করতেন। যাতায়াতের এই পথেই দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন মোহাম্মদ শাহী নামের এক বখাটে যুবক।
অভিযোগে প্রকাশ, শাহী ওই কলেজছাত্রীকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কায়দায় অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করতেন এবং নানাভাবে হয়রানি করতেন। বখাটে যুবকের এসব অনৈতিক আচরণের বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শাহীর পরিবারকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু এতে ক্ষান্ত না হয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শাহীর পরিবার। ছাত্রীর পরিবারের জোরালো দাবি, এই ক্ষোভের জের ধরেই তাঁর বাবার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা জানান, গত ২১ অক্টোবর বেলা একটার দিকে তাঁর মেয়ে কলেজ থেকে ছুটির পর নিজ বাড়িতে ফিরছিল। সে সময় পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সৈয়দপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ির দীঘিরপাড়ে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা শাহী পেছন থেকে তাঁর মেয়ের শ্লীলতাহানি করেন।
একপর্যায়ে বখাটে শাহী মেয়েটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক দীঘিরপাড়ের ঘন জঙ্গলের দিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালান। সেই মুহূর্তে মেয়েটির আত্মচিৎকারে চারপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাঁকে বখাটের হাত থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী পরিবার এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হয়ে পুরো ঘটনার সুবিচার প্রার্থনা করেছিল।
ভুক্তভোগী বাবা আরও যোগ করেন, ওই অপ্রীতিকর ঘটনার ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২২ অক্টোবর সকাল নয়টার দিকে তিনি যখন নিজের কৃষিজমিতে পানি সেচ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখন অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন শাহী ও তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম কামাল।
বাপা-ছেলের যৌথ এই অতর্কিত হামলায় তিনি গুরুতরভাবে জখম ও আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি নিজেই থানায় গিয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বাবা গণমাধ্যমকে জানান, নিজ মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার যৌক্তিক প্রতিবাদ জানানোর কারণে উল্টো তাঁর ওপরই পৈশাচিক হামলা চালিয়েছেন ওই বাবা ও ছেলে।
এদিকে এই বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী পরিবার কর্তৃক থানায় মামলা দায়ের করার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলাম কামাল এবং তাঁর ছেলে মো. শাহীকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী সংবাদমাধ্যমকে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যাতে ভবিষ্যতে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় তাঁদের পুরো পরিবারের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।