
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পারিবারিক বিরোধের জেরে সৃষ্ট মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়ে নিজ জননীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মামুন নামের এক ব্যক্তি কারা অন্তরীণ থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। গত ২৭ আগস্ট সংঘটিত এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আটক ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা জটিলতা ও অশান্তির কারণে মামুন মারাত্মক মানসিক অবসাদ ও অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এই মানসিক জটিলতার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে পূর্বে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছিল। দীর্ঘ ওই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার দিনটিতেই তিনি আকস্মিকভাবে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
বাড়িতে পা রাখার পর ওই দিনই বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রবীণা জননী আনোয়ারা বেগমের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আলোচনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে মানসিক ভারসাম্যহীন মামুন প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে তিনি ঘরের ভেতর থাকা একটি ধারালো বটি দিয়ে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে মাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি কোপ বসান। এই নির্মম ও ভয়াবহ আক্রমণের ফলে মুহূর্তের মধ্যে মা আনোয়ারা বেগমের মাথা তাঁর দেহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়।
মায়ের প্রাণপণে চিৎকার করার শব্দ শুনতে পেয়ে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। স্থানীয় লোকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে ঘাতক মামুন তৎক্ষণাৎ রক্তমাখা বটিটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ও হস্তক্ষেপে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত মামুনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
মাকে নৃশংসভাবে হত্যার এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশি প্রক্রিয়া ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর গ্রেপ্তারকৃত মামুনকে আদালতের নির্দেশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা