
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সোমবারের অনুসন্ধানে জানা যায়, সজীব বেপারীর উত্তর দিকের বসতঘরের মেঝেতে বাঁ দিকের দুটি কবর নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পশ্চিম দিকের কবরটির দৈর্ঘ্য দুই হাত এবং পূর্ব দিকের কবরটির দৈর্ঘ্য তিন হাত।
এই কবর দুটির চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে বাঁশের খুঁটির সাথে রশি টানিয়ে। সজীব বেপারীর মা শিউলী বেগম জানান, তাঁর ছেলে সজীব অনেক দিন ধরেই নানা রোগে ভুগছিল এবং বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করেও কোনো লাভ হয়নি।
শিউলী বেগম আরও উল্লেখ করেন, ছয় মাস আগে সজীব স্বপ্ন দেখে বাড়িতে ধ্যানে বা ভাড়ে বসে নিজেই সুস্থ হয়ে ওঠে। সেই থেকেই সে বিভিন্ন রোগাক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই চিকিৎসার কাজ শুরু করার আগে সজীব বেপারী একটি হোটেলে খাবার পরিবেশনকারী বা বয় হিসেবে কাজ করতেন। নিজের কার্যক্রম সম্পর্কে সজীব বেপারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাড়ে বসে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করছেন।
সজীব দাবি করেন, গত ২৬ অক্টোবর সকালে হঠাৎ করে তাঁর বসতঘরের পাকা মেঝে ভেদ করে একটি কবর আত্মপ্রকাশ করে। ওই একই দিন রাতে ঘরের ভেতর আরও একটি কবর জেগে ওঠে।
তাঁর ভাষ্যমতে, মেঝেতে জেগে ওঠা এই কবর দুটি হলো বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর। এই অলৌকিক দাবি ও ঝাড়ফুঁকের আসর নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে এমন ঘটনার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি বা উদাহরণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন তদন্ত করলে আসল সত্য সবার সামনে চলে আসবে।
ঘটনা সম্পর্কে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে এবং এর সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা