
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সবুজ প্রকৃতি ও জলবায়ু সুরক্ষায় বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশের এই বনায়ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও বিশেষভাবে প্রস্তুত করা ড্রোন।
গত ২০২৩ সালে আবুধাবি ম্যানগ্রোভ ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ছয় মিলিয়নেরও অধিক বীজ সফলভাবে বপন করা হয়েছে।
প্রযুক্তির এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা বেশ বিস্ময়কর। প্রতিটি ড্রোন একবারে প্রায় ছয় হাজার বীজ আকাশে বহন করার ক্ষমতা রাখে এবং নির্দিষ্ট স্থানে তা ফেলতে পারে।
এমন প্রযুক্তির ফলে অনেক বড় সুবিধা মিলছে। যেসব অঞ্চল দুর্গম কিংবা জোয়ার-ভাটার কারণে মানুষের পক্ষে সরাসরি প্রবেশ করা অসম্ভব, সেখানেও কোনো রকম প্রাকৃতিক ক্ষতিসাধন না করে সহজেই বীজ ছড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
তবে এই বিশাল প্রচেষ্টার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তন। বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া ম্যানগ্রোভ বনের জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সমুদ্রের অতিরিক্ত পানির নিচে গাছগুলো তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে, আবার গাছের জন্য পর্যাপ্ত পানির অনুপস্থিতিও তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে থাকে।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় শুধু বনায়ন করলেই চলবে না। বিদ্যমান বনগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ এবং অনুকূল জলীয় পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্দেশ্যে গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নতুন করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছেন, যাতে জলবায়ুর এই চ্যালেঞ্জগুলো সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়।
সব মিলিয়ে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সমগ্র ইউএইতে মোট দশ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ করার এক সুদূরপ্রসারী ও महत्त्वाकांक्षी লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীদের জোরালো মত হলো, কেবল বনের মোট আয়তন বাড়িয়ে যাওয়াটাই শেষ কথা নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ, কার্যকর ও টেকসই ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই হওয়া দরকার মূল লক্ষ্য।
সূত্র: আজকের পত্রিকা