
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে চৌধুরীহাট পর্যন্ত এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক অবৈধ বালু উত্তোলনের স্পট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন ঠিকাদার গণমাধ্যমকে জানান, বৈধভাবে বালুমহাল ইজারা নিয়ে ব্যবসা করার তুলনায় অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আর্থিক লাভ অনেক বেশি পাওয়া যায়। আর এই উচ্চ মুনাফার লোভে কারণেই অবৈধ এই ব্যবসা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বোয়ালখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক জানান, তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে গত ১০ মাসের মধ্যে বেশ কয়েকটি মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করেছেন। তবে এসব অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয় জনসাধারণের আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এমনকি মোবাইল কোর্টে জব্দ করা অবৈধ বালু নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেখানে অংশ নিতে কেউ আগ্রহ প্রকাশ করেন না। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই অবৈধ ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
ইউএনও আরও জানান, ভারী ট্রাক ও ডাম্পট্রাক চলাচল কঠোরভাবে ঠেকানোর উদ্দেশ্যে কালুরঘাট সেতুসংলগ্ন চরণদ্বীপ এলাকার মুখের সড়কে দুটি লোহার প্রতিবন্ধক বা গার্ডার বসানো হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ওই প্রতিবন্ধকগুলোর মধ্যে একটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারের পুলিশি চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন কালুরঘাট-ভাণ্ডালজুড়ি সড়কের সরকারি নিরাপত্তা খুঁটি বা পিলার উপড়ে ফেলে অবৈধভাবে বালুর রমরমা ব্যবসা পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফরিদ মিয়া নামের এক বালু ব্যবসায়ীকে আটক করে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর পরিচালিত অপর এক ঝটিকা অভিযানে অবৈধ উপায়ে নদী বা মাঠ থেকে বালু উত্তোলনের প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট লম্বা প্লাস্টিক পাইপ, বালুভর্তি দুটি ভারী ট্রাক এবং একটি ভেকু বা এক্সকাভেটর মেশিন জব্দ করা হয়। সেই সাথে ওই অভিযানে মোট সাতটি অবৈধ বালু উত্তোলনের স্পট বুলডোজার দিয়ে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা