
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
এশিয়ার প্রতিটি দেশের উৎপাদন খাতে একই ধরনের স্থবিরতা বা মন্থর গতি লক্ষ্য করা যায়নি। এর বিপরীতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার কারখানাগুলোর কার্যক্রমে গতি ফিরে এসেছে। চলতি বছরের অক্টোবরে এই দেশগুলো আগের মাসের তুলনায় অনেক দ্রুত নিজেদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের বাজারের ভেতরে পণ্যের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়া এবং নতুন কর্মী নিয়োগের হার কমে যাওয়ার কারণে তাদের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। তবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ সন্তোষজনক পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল একটি নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালে এশীয় অঞ্চলের অর্থনীতি চার দশমিক আট শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০২৭ সালে চার দশমিক চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারিত ছিল পাঁচ শতাংশ। সুতরাং পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই হার কিছুটা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
বর্তমান ভূ-রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাকে এশিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের অস্বাভাবিক উত্থানের পর সেখানে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংশোধনকেও এই অঞ্চলের জন্য অন্যতম অতিরিক্ত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের দ্রুত বিকাশ থেকে যে কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে, তাদের মধ্যে জাপান অন্যতম। তবে এই প্রযুক্তির আশীর্বাদ ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার পরেও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অত্যন্ত সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চাশায় যদি কখনো বড় ধরনের কোনো ধাক্কা লাগে, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব কেবল প্রযুক্তি খাতের গণ্ডির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে শেয়ারের দামে দ্রুত দরপতন ঘটার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান।
এই ধরনের বৈশ্বিক ও প্রযুক্তিগত সংকটের ফলে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানি এবং উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। পরিশেষে, এর নেতিবাচক ধাক্কায় জাপানের নিজস্ব জাতীয় অর্থনীতিও যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা