
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শ্রমিক বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের প্রেক্ষাপটে গাজীপুর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ মোট এগারো প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন পঁচিশজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, আজকের দিনটিতে সকাল আটটার কিঞ্চিৎ পূর্বে কিছুসংখ্যক ক্ষুব্ধ শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় সমবেত হয়ে রাস্তাটি অবরুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালান। তবে সেখানে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া দিয়ে তাঁদের মহাসড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।
পুলিশ সুপার আরও নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে উক্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো প্রকার বিঘ্ন ঘটছে না।
উল্লেখ্য যে, নিজেদের মাসিক বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর যৌক্তিক দাবিতে গত বেশ কিছুদিন ধরেই গাজীপুর শিল্প এলাকার বিভিন্ন কারখানার সাধারণ শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ এই দুটি প্রধান মহাসড়ক আটকে রেখে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছেন।
চলমান এই আন্দোলন চলাকালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের একটি বক্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক গাড়ি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গুদামঘরে অগ্নিসংযোগ করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই দিনগুলোতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েজন সদস্য আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের এই সামগ্রিক ঘটনার জেরে পুলিশি অভিযানে ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা