
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাতের গহীন আকাশে অজস্র তারার মেলা বসে। এই নক্ষত্রগুলোর কোনোটি আমাদের চিরচেনা সূর্যের মতো, আবার কোনোটি আকারে ছোট ও অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা। এদের চারপাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করছে নানা ধরনের গ্রহ। এসব গ্রহের কোনোটি পুরোপুরি পাথুরে, কোনোটিতে আবার গ্যাসের প্রাচুর্য রয়েছে। কোথাও হয়তো তরল পানির অস্তিত্ব আছে, আবার কোথাও তীব্র ও প্রখর গরমে আস্ত পাথর পর্যন্ত গলে তরল হয়ে যায়। তবে প্রশ্ন জাগে, এই বিশাল মহাবিশ্বের গ্রহগুলোর মধ্যে কি এমন কোনো জগৎ থাকতে পারে, যা প্রাণের বিকাশের জন্য আমাদের পৃথিবীর চেয়েও অনেক বেশি উপযোগী?
সাধারণত আমরা আমাদের এই গ্রহটিকে প্রাণের সূতিকাগার বা আদর্শ আবাসস্থল হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। এখানে পর্যাপ্ত বাতাস, সুপেয় পানি, সূর্যের সোনালী আলো, সবুজ গাছপালা, পশুপাখিসহ অসংখ্য অণুজীবের সহাবস্থান রয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাবে, পৃথিবীর সব অঞ্চলের পরিবেশ প্রাণের জন্য একইভাবে অনুকূল নয়। সাহারা মরুভূমির চরম ও প্রচণ্ড গরমে বেঁচে থাকা যেমন অত্যন্ত দুরূহ, তেমনি অ্যান্টার্কটিকার হাড়কাঁপানো বরফে ঢাকা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকাও সহজ নয়। পক্ষান্তরে, পৃথিবীর বুকে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে যেখানে প্রাণের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি। উষ্ণ সমুদ্রের বর্ণিল প্রবালপ্রাচীর কিংবা ক্রান্তীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জ হলো তার জীবন্ত উদাহরণ।
তাহলে কি এমন কোনো বিশেষ গ্রহের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব, যেখানে প্রাণের টিকে থাকার মতো অনুকূল পরিবেশ পৃথিবীর তুলনায় বহুগুণ বেশি? যেখানে বিস্তৃত অগভীর সমুদ্র, ছোট আকৃতির দ্বীপমালা এবং বৈচিত্র্যময় বাসস্থানের সমাহার মিলে জীবের বিকাশের এক অপার সুযোগ তৈরি করে দেবে? যেখানে জীবনের বিবর্তন ও প্রসারের জন্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময়ও বরাদ্দ থাকবে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বর্তমানে ঠিক এমনই সব অনন্য গ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর জল্পনা-কল্পনা ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞানীরা এই ধরনের কল্পিত জগতগুলোর নাম দিয়েছেন সুপারহ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ড বা পৃথিবীর চেয়েও অধিক বাসযোগ্য জগৎ। এই বিশেষ গ্রহগুলো আসলে ঠিক কেমন হতে পারে, মহাবিশ্বের ঠিক কোথায় সেগুলোর সন্ধান করতে হবে এবং কী উপায়ে সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের চিহ্ন খুঁজে বের করা সম্ভব, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে বিজ্ঞানীদের গবেষণা। কয়েক বছর আগে জার্মানির বার্লিনের একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগারে এক অদ্ভুত ও কৌতূহলোদ্দীপক পরীক্ষা পরিচালনা করছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইভা ভিলোভিচ।
তিনি গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে এমন এক বিশেষ আলোর সৃষ্টি করেছিলেন, যা দেখতে অবিকল কমলা রঙের কোনো তারার আলোর মতো। মহাকাশবিজ্ঞানে এই ধরনের তারাকে বলা হয় কে-ডোয়ার্ফ, যা আমাদের সূর্যের তুলনায় কিছুটা ঠান্ডা প্রকৃতির এবং এর ভেতরের জ্বালানিও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসে। সেই কৃত্রিম কমলা আলোয় তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে চাষ করছিলেন গার্ডেন ক্রেস নামের অত্যন্ত ছোট্ট একটি গাছ, যার চারা দেখতে অনেকটা পরিচিত শর্ষে গাছের চারার মতোই।
গাছটির বীজ থেকে যখন সফলভাবে চারা অঙ্কুরিত হলো, তখন এক চমকপ্রদ দৃশ্য দেখা গেল। কমলা রঙের তারার সদৃশ সেই আলোয় গাছগুলো শুধু স্বাভাবিকভাবে বড়ই হচ্ছিল না, বরং প্রথাগত সূর্যের আলোর মতো আলোতে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদের তুলনায় সেগুলো আরও দ্রুত ও বেশ লম্বা হয়ে উঠছিল। পরীক্ষার এই অপ্রত্যাশিত ও অভাবনীয় ফল দেখে বিজ্ঞানী ইভা ভিলোভিচ নিজেও দারুণভাবে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
তার কারণ হলো, পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব ও প্রাণের বিকাশের জন্য সূর্যের আলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সব ধরনের নক্ষত্রের আলো যে উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য একইভাবে উপযোগী বা সমমানের হবে, তা বিজ্ঞানীরা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। গাছপালা ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে তা নিশ্চয়ই সবার জানা রয়েছে। উদ্ভিদের শক্তি অর্জনের এই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াটির নাম হলো সালোকসংশ্লেষণ বা আলোকসংশ্লেষ।
গাছ মূলত সূর্যের আলোকে সফলভাবে ব্যবহার করে পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সমন্বয়ে শর্করা জাতীয় প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রস্তুত করে থাকে। এই উৎপাদিত খাদ্যের মাধ্যমেই গাছ প্রয়োজনীয় শক্তি লাভ করে এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। কেবল তা-ই নয়, আমাদের এই পৃথিবীর প্রায় সমগ্র খাদ্যশৃঙ্খলের একেবারে সূচনাতেই রয়েছে উদ্ভিদ কিংবা অন্য কোনো ধরনের সালোকসংশ্লেষণকারী ক্ষুদ্র জীব।
খাদ্যচক্রের নিয়মে কোনো প্রাণী সরাসরি গাছ খেয়ে বেঁচে থাকে, আবার কোনো প্রাণী সেই গাছখেকো তৃণভোজী প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবেই পুষ্টি, খাবার এবং শক্তির প্রবাহ একটি জীব থেকে অন্য জীবে ধাপে ধাপে ছড়িয়ে পড়ে। তাই অন্য কোনো ভিনগ্রহের নক্ষত্রের আলোতেও যদি গাছপালা সুস্থভাবে ও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সমর্থ হয়, তবে সেটি ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধানের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সূত্র হতে পারে।
অবশ্য গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে একটি মাত্র গাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার দৃশ্য দেখে দূরদূরান্তে অবস্থিত কোনো নির্দিষ্ট গ্রহে প্রাণ বা জীবনের অস্তিত্ব রয়েছে বলে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু ঘোষণা করা যায় না। সেখানে সফলভাবে প্রাণ বিকশিত হতে হলে উপযুক্ত তাপমাত্রা, তরল পানি, অনুকূল বায়ুমণ্ডলসহ আরও অনেকগুলো কঠোর শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। তবে এই পরীক্ষামূলক গবেষণার সাহায্যে অন্তত এইটুকু তো পরিষ্কারভাবে বোঝা সম্ভব যে, প্রাণের অস্তিত্বের জন্য কি কেবল সূর্যের মতো নির্দিষ্ট নক্ষত্রই একান্ত জরুরি নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির নক্ষত্রের চারপাশের গ্রহেও প্রাণ বিকশিত হতে পারে।
বিজ্ঞানী ভিলোভিচের জোরালো মতে, কে-ডোয়ার্ফ শ্রেণীর নক্ষত্রগুলোর আলো মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার সম্পূর্ণ দাবিদার। কারণ, এই নির্দিষ্ট আলোতে যদি সফলভাবে সালোকসংশ্লেষণ সংঘটিত হওয়া সম্ভব হয়, তবে তেমন কোনো নক্ষত্রকে বেষ্টন করে থাকা গ্রহেও উদ্ভিদের মতো উচ্চতর বা নিম্নতর জীবের বিকাশ ঘটা অসম্ভব কিছু নয়। আর সেই কাঙ্ক্ষিত গ্রহটি যদি আকৃতিতে আমাদের পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় হয়, তবে সেখানে প্রাণের সফল বিকাশের সুযোগ ও সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বেশি থাকতে পারে।
সুপারহ্যাবিটেবল বা অতি-বাসযোগ্য গ্রহের এই আকর্ষণীয় ধারণাটি ভালোভাবে বুঝতে হলে সবার আগে জানা প্রয়োজন যে সুপার-আর্থ বা অতি-পৃথিবী আসলে কী। এই নামটি শুনে প্রথমটায় যে কারও এমন ধারণা হতে পারে যে এটি বুঝি আকারে ও প্রকারে পৃথিবীর চেয়ে সব দিক থেকে শ্রেষ্ঠ বা উন্নত কোনো গ্রহ। তবে প্রকৃত সত্য হলো এমনটি নয়। সুপার-আর্থ বলতে মূলত এমন কিছু পাথুরে গ্রহকে বোঝানো হয়, যেগুলোর আকার বা ভর আমাদের পৃথিবীর তুলনায় কিছুটা বেশি।
তবে এই গ্রহগুলোর সুনির্দিষ্ট আকার, মোট ভর কিংবা অভ্যন্তরীণ গঠন কোনোটিই একে অপরের হুবহু এক নয়। এদের মধ্যে কোনো কোনো গ্রহ হয়তো প্রাণের বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত হতে পারে, আবার ঠিক বিপরীতভাবে কোনো কোনো গ্রহ প্রাণের জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী বা ফাঁকা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে যে সুপারহ্যাবিটেবল বা অতি-বাসযোগ্য গ্রহগুলোর কল্পচিত্র এঁকে চলেছেন, সেগুলোর আয়তন বা আকার আমাদের পৃথিবীর চেয়ে প্রায় কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
এমনকি এই বিশেষ গ্রহগুলোর মোট ভর হতে পারে পৃথিবীর ভরের প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে মূল নক্ষত্র থেকে এই গ্রহগুলোর দূরত্বও হতে হবে অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিমিত। নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান হলে তীব্র ও প্রচণ্ড গরমে গ্রহের সমস্ত পানি বাষ্পীভূত হয়ে মহাশূন্যে উড়ে যেতে পারে। আবার নক্ষত্র থেকে অনেক বেশি দূরে অবস্থান হলে তরল পানি জমে সম্পূর্ণ বরফে পরিণত হয়ে যাবে। তাই ঠিক মাঝামাঝি এমন একটি উপযুক্ত দূরত্ব থাকা দরকার, যেখানকার গ্রহের পৃষ্ঠভাগে তরল অবস্থায় পানি টিকে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানের ভাষায় এই নির্দিষ্ট দূরত্বকে বলা হয় বাসযোগ্য অঞ্চল কিংবা হ্যাবিটেবল জোন। তবে কেবল এই বিশেষ অঞ্চলে অবস্থান করলেই যে কোনো গ্রহে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাণের অস্তিত্ব গড়ে উঠবে, এমন কোনো কথা নেই। কোনো নির্দিষ্ট গ্রহের বায়ুমণ্ডলের প্রকৃত অবস্থা কেমন, সেখানকার গড় তাপমাত্রা কত এবং পর্যাপ্ত পানি সেখানে বিদ্যমান রয়েছে কি না—এমন অজস্র বিষয়ের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হয় যে সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ আদৌ তৈরি হবে কি না।
এবার মনে মনে একটু কল্পনা করা যাক, আমাদের পৃথিবীর চেয়ে আকারে কিছুটা বড় এমন একটি গ্রহের কথা। এই কাল্পনিক গ্রহটির মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আমাদের পৃথিবীর তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি হবে। এর ফলে গ্রহটি তার চারপাশের বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসকে অত্যন্ত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ও ভালোভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হবে। উপযুক্ত এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডল হতে পারে অত্যন্ত ঘন ও পুষ্ট। এর ফলস্বরূপ গ্রহটির সার্বিক জলবায়ু থাকতে পারে বেশ স্থিতিশীল।
তবে শুধু কোনো গ্রহ আয়তনে বড় হলেই যে তার বায়ুমণ্ডল প্রাকৃতিকভাবে ঘন হবে কিংবা আবহাওয়া চমৎকার থাকবে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট গ্রহটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গঠন এবং এর সুদীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বড় আকারের গ্রহটির আন্ডারগ্রাউন্ড কেন্দ্র বা কোর আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের তুলনায় আকৃতিতে অনেক বড় হতে পারে।
সেই কেন্দ্রের ভেতর যদি অত্যন্ত উপযুক্ত এবং নিখুঁত গঠন বজায় থাকে, তবে গ্রহটির চারপাশ জুড়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এই অদৃশ্য চৌম্বকক্ষেত্রটি মূল নক্ষত্র থেকে ছুটে আসা বিভিন্ন ক্ষতিকর মহাজোট কণা ও প্রাণঘাতী তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে পুরো গ্রহটিকে সফলভাবে রক্ষা করতে বড় ধরনের সাহায্য করে থাকে। আমাদের এই পৃথিবীরও ঠিক এমন একটি প্রাকৃতিক চৌম্বকক্ষেত্র রয়েছে। সূর্য থেকে ছুটে আসা চার্জযুক্ত কণাগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর এই চৌম্বকক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই আমাদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সৃষ্টি হয় চোখ জুড়ানো এবং মনোমুগ্ধকর মেরুজ্যোতি।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে, গ্রহের ভেতর বড় কোনো আয়রন কোর বা লোহাময় কেন্দ্র থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হবে, এমন কোনো চিরন্তন নিয়ম নেই। গ্রহটির ভূগর্ভের ভেতরে ঠিক কী ধরনের প্রক্রিয়া বা ঘটনা ঘটে চলেছে, মূলত তার ওপরও এই বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে। সুপারহ্যাবিটেবল বা অতি-বাসযোগ্য গ্রহের এই সমস্ত আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলো তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কেবলই কিছু সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য মাত্র, এটি কোনো পরীক্ষিত ও প্রমাণিত গ্রহের চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বর্ণনা নয়।
এবার যদি আমরা আমাদের কল্পনার চোখ মেলে সরাসরি একটি সুপারহ্যাবিটেবল বা অতি-বাসযোগ্য গ্রহে এক চক্কর ঘুরে আসি, তবে দূর থেকে এই গ্রহটিকে দেখতে অবিকল আমাদের চেনা পৃথিবীর মতোই চমৎকার নীল-সবুজ রঙের বলে মনে হতে পারে। তবে এর পৃষ্ঠভাগে হয়তো আমাদের পৃথিবীর মতো এত বিশাল ও প্রকাণ্ড আকারের মহাদেশগুলোর দেখা মিলবে না। বরং এর পরিবর্তে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে অজস্র ছোট ছোট দ্বীপ এবং তাদের চারপাশ ঘিরে থাকবে বিস্তীর্ণ অগভীর সমুদ্র।
কোথাও হয়তো দেখা মিলবে পৃথিবীর প্রবালপ্রাচীরের মতো জটিল ও সুন্দর সব কাঠামোর, আবার কোথাও দৃষ্টি জুড়াবে ছোট ছোট মনোরম উপসাগর। এই সাগরগুলোর পানির গভীরতা কম হওয়ার কারণে মূল সূর্য বা দূরবর্তী নক্ষত্রের আলো খুব সহজেই সরাসরি সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারছে। এই ধরনের একটি অনন্য পরিবেশ প্রাণের বিকাশের জন্য কেন অত্যন্ত অনুকূল হতে পারে, সে বিষয়ে আমাদের নিজের পৃথিবীর দিকে তাকালেই একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।
আমাদের গ্রহের উষ্ণ সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীরগুলো হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ বাসস্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঠিক একই জায়গায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সহাবস্থান করে নানা প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, শামুক, প্রবাল, বিভিন্ন জাতের শৈবাল এবং অগণিত অদৃশ্য ক্ষুদ্র জীব। এ ছাড়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোর ভেতরেও প্রাণের অপার বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। দ্বীপগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একে অপরের মধ্যে দূরত্ব থাকায় এক জায়গার জলজ বা স্থলচর প্রাণী খুব সহজে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে পারে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা দ্বীপে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির অত্যন্ত চমৎকার ও বৈচিত্র্যময় বিকাশ ঘটার সুযোগ তৈরি হয়।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।