
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এক অগ্নিকাণ্ডে তিন সহোদরের বসতবাড়ি পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত চুলার আগুন থেকে এই সর্বগ্রাসী সূত্রপাত ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বসতঘরগুলোর সবকিছু গ্রাস করে নেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ইউনূস মৃধা জানান, তাঁরা মোট তিন ভাই। ইতোমধ্যে তাঁর দুই ভাই মারা গেছেন এবং বর্তমানে তিনি একাই জীবিত রয়েছেন। ঘটনার দিন তিনি গোসল করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি ভাই ইব্রাহিম মৃধার ঘর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখতে পান।
দ্রুত ছুটে গিয়ে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্র প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে তিনি ভেতরে ঢুকতে ব্যর্থ হন। এরপর তাঁর চিৎসকার ও আহ্বানে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
তবে ততক্ষণে তাঁদের তিনটি বসতঘরই সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা সমস্ত নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তারা একেবারে সর্বস্বান্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং বেঁচে থাকার তাগিদে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি সাহায্য কামনা করেছেন।
গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দলনেতা মো. জাকির হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায়। টানা প্রায় দুই ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টার পর কর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
প্রাথমিক তদন্ত ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন যে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই মূলত আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি বসতঘরের সমস্ত নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতির মোট পরিমাণ আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, খবর পাওয়া মাত্রই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও তালিকা নিরূপণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে যথাসম্ভব সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা