
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসন্ন গ্রীষ্মের তীব্রতা শুরুর আগেই দেশের জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি সাধ্যমতো স্বাভাবিক রাখতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই খাতে মোট তেতাল্লিশ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
বর্তমান অর্থবছরেও বিদ্যুতের সার্বিক চাহিদা প্রায় আগের মতোই রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিতে ইতিমধ্যে ডিজেলের মজুত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সচল রাখতে নিয়মিত কয়লার সরবরাহ ও পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল নিশ্চিত করতে বিকল্প জোগানদাতাদের সঙ্গেও সরকারের যোগাযোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ছয়শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের বিগত দিনের নানা ব্যর্থতা নিয়ে অযথা আলোচনা কিংবা সমালোচনা করে সময় নষ্ট না করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চাহিদা কীভাবে মেটানো যায়, সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাবেক সরকারগুলোর ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে সময়ক্ষেপণ না করে আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায় এবং গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বর্তমান প্রশাসনের কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল রাখা, এই খাতের বর্তমান ব্যয় ও পূর্বের চুক্তিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, দেশের ভেতরে গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে পর্যাপ্ত বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুততার সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের পরিধি বাড়ানোর কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
শুধু তাই নয়, নবায়নযোগ্য এই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দেশের কৃষিখাতেও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে সরকার বর্তমানে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে এবং এই ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে আধুনিক সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে কৃষকদের ফসল উৎপাদনে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর চাপ কমে তা সাশ্রয় হবে।
ঠিক একইভাবে, সৌরবিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের হিমাগারগুলোতে, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ জনপদের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা