
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সময়ে বড় ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার সামর্থ্য নেই বলেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মনে করে।
তবে দলটির হাতে বিশাল পরিমাণ অর্থ মজুদ রয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর অপচেষ্টা চালানো হতে পারে।
ডিসেম্বর মাসের সঙ্গে এই সম্ভাব্য নাশকতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে নিজের কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা বা নিশ্চিত তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি আরও পরিষ্কার করে জানান যে, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন, ঠিক ততদিনই দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির নানামুখী চক্রান্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে আসল শ্রমিকদের বাদ দিয়ে অন্য মহলের উপস্থিতি এবং তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে সরকারকে।
এসব প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বিগত আমলের মতো দমনপীড়ন চালিয়ে বা শক্তি প্রয়োগ করে কোনো আন্দোলন বলপূর্বক গুঁড়িয়ে দিতে চায় না বর্তমান প্রশাসন।
বিক্ষোভ বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া এই তরুণরাও যে এই স্বাধীন রাষ্ট্রেরই নাগরিক, সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সরকারের নমনীয় অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন।
গোয়েন্দা সংস্থার নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং জনগণের ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে রাষ্ট্র।
খুব দ্রুতই চলমান এই অস্থির পরিস্থিতির অবসান ঘটবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে বলে তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন গণমাধ্যমের সামনে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে, রাষ্ট্র তাকে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি নিজে স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে আসুন কিংবা সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনতে হোক, উভয় ক্ষেত্রেই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ও চাওয়া সম্পূর্ণ এক।
তবে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার ওপর থেকে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না কিংবা তাকে বিশেষ ট্রাভেল পাস প্রদান করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগে থেকে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে সরকার আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন যে, পুলিশকে সবসময় প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে।
ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, যা বিগত আওয়ামী লীগ আমলের আন্দোলন দমনের চরম পদ্ধতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
আগের মতো নির্বিচারে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার থেকে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ বের করে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
বর্তমান প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে যেন পুলিশ বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি ও জানমালের নিরাপত্তা বজায় রেখে পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা