
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর মিরপুর এলাকার কালশী সড়কে আজ মঙ্গলবার সকালে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই হাঙ্গামার সময় কয়েকজন ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্যকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে বেদম প্রহার করেছেন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন। শুধু মারধরই নয়, ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে থাকা অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ঠিক এগারোটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে আনুমানিক দুই শ মিটার দূরে কালশী সড়কের ওপর একটি বেসরকারি সুপারমার্কেটের সামনে এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিগত কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
সংঘর্ষের ওই দৃশ্য একটি আবাসিক ভবনের ওপরের তলার বারান্দা থেকে মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন এক নারী। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনরত জনতাকে ধাওয়া দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। মিরপুর-১২ নম্বর অভিমুখী একটি সড়কে এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আন্দোলনকারীদের একেবারে মাঝে আটকা পড়ে যান।
ওই নারীর ভাষ্যমতে, চারদিক থেকে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও এক পুলিশ সদস্য জনরোষের মুখে পড়ে যান এবং তাকে ঘিরে ধরে আক্রমণ শুরু করা হয়। ওই সময় আশপাশে অন্য কোনো সহকর্মীকে তার সহায়তায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই নারী আরও বলেন, ‘তারা পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল এবং একজন তার বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন মিলে তাকে ইচ্ছামতো প্রহার করে। তবে তাদের মধ্য থেকেই আবার কিছু মানুষ ওই পুলিশ সদস্যকে রক্ষা করে নিরাপদে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের দিকে পাঠিয়ে দেয়।’
এদিকে ঘটনাস্থলে অবস্থিত একটি সুপারশপের এক বিক্রয়কর্মীও ওই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে একই রকম তথ্য দিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, হঠাৎ করেই কিছু মানুষ ওই সদস্যকে মাটিতে শুইয়ে ফেলে আক্রমণ শুরু করে। এই ভয়ানক পরিস্থিতি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে দোকানের সাটার নামিয়ে দ্রুত দোতলায় চলে যান এবং পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছে তা আর দেখার সুযোগ পাননি।
এই পুরো ঘটনার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের পিওএম দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার তৌহিদুল আরিফ গণমাধ্যমকে জানান, এই বিষয়ে তাদের দপ্তরে তখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার পরই কেবল মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে তিনি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান।
আজ সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয়ে বেলা সোয়া এগারোটা পর্যন্ত একটানা শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে এই ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ চলে। তবে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং সড়কের উভয় পাশেই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
গত শনিবার ও রোববারও শ্রমিকরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর সহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। বিশেষ করে রোববার মিরপুর-১০ নম্বর চত্বরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা সড়ক আটকে বিক্ষোভের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বেশ কিছু স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালেও মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে নেমে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।