
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর সৃষ্ট পরিবেশগত সংকট কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সিঙ্গাপুরের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কে শানমুগাম ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে একে ‘হতাশাজনক’ এবং ‘অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সাধারণত কূটনৈমিত্তিক শিষ্টাচার ও পরিপক্বতার জন্য পরিচিত সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর ও সরাসরি সমালোচনা অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে শানমুগাম জোরালো ভাষায় জানান যে, এই ধোঁয়া তাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে এবং এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সীমান্তের উভয় পারের সাধারণ মানুষই এই বিষাক্ত ধোঁয়ার শিকার হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের এই যৌথ সমস্যা নিরসনের ক্ষেত্রে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ বা দূরত্ব থাকা উচিত নয় বলেই তারা মনে করেন।
ইন্দোনেশিয়ার সাধারণ নাগরিকরাও এই দুর্যোগের কারণে সমপরিমাণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন সিঙ্গাপুরের এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী। তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারী এবং দাবানল সৃষ্টিকারী দায়িত্বজ্ঞানহীন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া ইন্দোনেশিয়ার নিজেদের জাতীয় স্বার্থের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার ঠিক কয়েক দিন পরই জাকার্তার পক্ষ থেকে এক নতুন ঘোষণা আসে। ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, তারা সিঙ্গাপুরে তাদের গ্যাস রপ্তানি কমিয়ে দেবে এবং এর পেছনে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথাটি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ ইন্দোনেশিয়ার এই জ্বালানি সিদ্ধান্তকে সিঙ্গাপুরের সাম্প্রতিক কড়া বক্তব্যের একটি তাৎক্ষণিক ও রাজনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণভাবে বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি বা সংকট দেখা দিয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই গ্যাস রপ্তানি হ্রাস করার বিষয়টি নিয়ে সিঙ্গাপুর জানিয়েছে যে, এর ফলে তাদের মোট দৈনিক চাহিদার মাত্র ২ শতাংশের চেয়েও কম পরিমাণে প্রভাব পড়বে।
পরিশেষে সিঙ্গাপুর সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, গ্যাস সরবরাহের এই সামান্য ঘাটতির কারণে দেশটির সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের কোনো বড় সংকট বা বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা