
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে সন্দেহজনক আচরণ পরিলক্ষিত হলে লাইবার পরিবার এক ট্রাভেল এজেন্টের শরণাপন্ন হয়ে সমস্ত কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করান। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বোস্টনগামী বিমানযাত্রার টিকিটটি খতিয়ে দেখে সম্পূর্ণ জাল বলে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের এক প্রতিবেশী আইনজীবী পুরো নথিপত্রগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে সেগুলোর প্রতিটিই সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল। গত ৬ অক্টোবর নাগাদ পরিবারটি পরিষ্কার বুঝতে পারে যে তারা অত্যন্ত বড় ধরনের একটি প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছে।
এই ঘটনার ঠিক তিন দিন পর, অর্থাৎ ৯ অক্টোবর তারিখের দিকে বাড়ি থেকে বাইরে বের হওয়ার অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে লাইবার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে এই মর্মান্তিক ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে আশঙ্কা করা হলেও, নিহত তরুণীর পরিবার পুলিশের এই তত্ত্ব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। শোকার্ত বাবার সরাসরি অভিযোগ, নোমানের মাধ্যমে সংঘটিত এই নির্মম প্রতারণাই তাঁর তরুণী মেয়ের অনভিপ্রেত মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী।
লাইবার আকস্মিক মৃত্যুর ঠিক দুই দিন পরে অভিযুক্ত নোমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গত ২০ অক্টোবর পুলিশি হেফাজতে নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি উদ্ধারের কার্যক্রম চলার সময় মোটরসাইকেলে করে হঠাৎ হাজির হওয়া অজ্ঞাতনামা কিছু দুর্বৃত্ত সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, মূলত পুলিশি হেফাজত থেকে নোমানকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার হীন উদ্দেশ্যেই এই সশস্ত্র হামলাটি চালানো হয়েছিল।
গত ২১ অক্টোবর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি স্বয়ং লাইবার শোকার্ত পরিবারের বাসভবনে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি প্রতারক নোমানের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপির বেশি অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা