
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বরগুনার আমতলী এলাকায় পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোট চার হাজার সাতশ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কহিনুর বেগম ও সেলিমকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তাদের জামাতা সবুজ মৃধা। অভিযুক্ত এই যুবকের বিরুদ্ধে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ এবং ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটকের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আটককৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন যে, পলাতক সবুজ মৃধা দেশের নানা প্রান্ত থেকে নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করে এই শ্বশুরবাড়িতে নিরাপদে লুকিয়ে রাখতেন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহার করে এসব অবৈধ মাদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা হতো।
স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট এলাকার চুনাখালী বাজার, চরখালী, কালিবাড়ী এবং গোজখালী গ্রামের বিভিন্ন স্থানে গভীর রাতের অন্ধকারে নিয়মিত মাদকের অবৈধ লেনদেন চলে। সায়েখ হাওলাদার, তার ভাই শাহীন হাওলাদার, বাবলু এবং রিনা বেগম নামের স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এই অনৈতিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আটক দুজন এবং পলাতক সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটককৃত দুজনকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা প্রধান অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা