
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ভাঙনের আশঙ্কা মাথায় রেখেই অবশেষে শুরু হয়েছে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির কার্পেটিং কাজ। পাহাড়ি ছড়া ও জমির মাঝখান দিয়ে যাওয়া এই রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা মিলেছে এক ব্যস্ত দৃশ্যের। সেখানে ঠিকাদারের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) তদারকি কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে শ্রমিকরা পিচ ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
কাজের এমন তড়িঘড়ি ধরন দেখে খালের ভাঙনকবলিত পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তীব্র উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি সড়কটিকে আরও বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল কালাম এবং অপর স্থানীয় বাসিন্দা সর্দার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এই অঞ্চলের অত্যন্ত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির প্রতি সরকারের দৃষ্টি পড়ায় তাঁরা খুশি হলেও, খালের মারাত্মাক ভাঙন প্রতিরোধ না করে কার্পেটিং করায় সড়কের স্থায়ীিত্ব নিয়ে শঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
তাঁদের প্রবল আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রবল স্রোতের তোড়ে রাস্তার একপাশের দুই থেকে তিনটি অংশ ধসে পাশের জমিতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করা সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার ছাড়াই কাজ এগিয়ে চলছে বলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিপ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাজু আহমেদ পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, জমি ও খালের মধ্যবর্তী এই রাস্তার দুই-তিনটি স্থানে সত্যি সত্যি ভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকি বিদ্যমান। তবে বর্তমান প্রকল্পের বরাদ্দে কোনো গাইডওয়াল নির্মাণের সংস্থান না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, রাস্তার ক্ষণস্থায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রতিষ্ঠান নিজ অর্থায়নে ড্রাম শিট স্থাপন করে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাবে। অন্যথায় নিয়মানুযায়ী কাজের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাছাড়া, সড়কটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে এলজিইডিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, পাহাড়ি ছড়া সংলগ্ন ওই নির্দিষ্ট এলাকায় রাস্তাটির যে ভাঙনঝুঁকি রয়েছে, সেকথা তাঁরা অস্বীকার করছেন না। তবে বর্তমান কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে গাইডওয়াল তৈরির কোনো বাজেট ছিল না।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, উদ্ভূত এই পরিস্থিতির কথা ইতোমধ্যে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়েছে। আপাতত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিকল্প পন্থায় ড্রাম শিট বসিয়েই সড়কটির অস্থায়ী সুরক্ষার চেষ্টা করা হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা