
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মিরপুরের পিচের পরিচিত টার্ন ও ঘূর্ণি সামলাতে যেখানে অধিকাংশ প্রতিপক্ষ দল রক্ষণাত্মক কৌশলে আটকে থাকে, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল। তারা রক্ষণ ও আক্রমণাত্মক শটের দারুণ এক মিশ্রণ ঘটিয়ে ৪১৫ রানের মোট সংগ্রহের বড় অংশই বাউন্ডারি থেকে তুলে নেয়। পুরো ইনিংসে তাদের ব্যাটাররা মারেন ৪৬টি চার ও ৬টি ছক্কা। যার মধ্যে ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনটি করে ছক্কার মার ছিল। বিশেষ করে কেবল দ্বিতীয় ইনিংসেই ক্যারিবীয় ব্যাটাররা ২০টি চার হাঁকাতে সক্ষম হন। ভালো বলগুলোকে যথাযথ সম্মান জানানোর পাশাপাশি বাজে বল পেলে সুযোগ লুফে নিতে ভোলেননি তাদের ব্যাটাররা।
বাংলাদেশ সফরে পা রাখার আগে চেন্নাইতে যে বিশেষ ক্যাম্প করেছিল ক্যারিবীয় দল, তা তাদের সাফল্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন ব্যাটিং কোচ রেইফার। প্রস্তুতি পর্বের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি জানান, এই ম্যাচের জন্য তারা যে পরিকল্পনা ও অনুশীলন করেছিলেন, সেটাই ছিল আসল ব্যাপার। গত এক বছর ধরে এবং বিশেষ করে চেন্নাইয়ের কন্ডিশনে টানা দুই সপ্তাহ ধরে তারা যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন, খেলোয়াড়রা ঠিকঠাকভাবেই তার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন মাঠে।
কোচ আরও ব্যাখ্যা করেন যে তাদের অনুশীলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্পিন বোলিং মোকাবিলা করা, নিখুঁতভাবে স্ট্রাইক রোটেট করা এবং বাউন্ডারি আদায়ের নানা বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা। মাঠে তার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দর্শকরা দেখেছেন কীভাবে দলটির ব্যাটাররা সুইপ, রিভার্স সুইপ, ড্রাইভ ও বল ব্লকিংয়ের মতো বিভিন্ন কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন।
সবকিছুর ছাপিয়ে ব্যাটিং কোচের সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে যেভাবে তার দল রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। দলের আত্মবিশ্বাস এবং স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে কার্যকারিতা দেখানোর সামর্থ্য তাদের মুগ্ধ করেছে। এসব দিক বিবেচনা করে কোচের দৃঢ় বিশ্বাস, স্পিন বল সামলানোর ক্ষেত্রে তাদের পুরো ব্যাটিং গ্রুপটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ও উন্নত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা