
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
একটি সাম্প্রতিক সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, নির্বাচনব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে দেশের অতীত সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান সেমিনারে বলেন, স্বাধীনতাসংগ্রামের পর শেখ মুজিবুর রহমান তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে দিয়ে নিজে সরকারে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দেশের সংবিধানের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হিসেবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনেই বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ কোনো বিরোধী দল ছাড়াই গঠিত হয়েছিল, যা প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক একটি বিষয় ছিল।
বঙ্গবন্ধু নিজে এসব কাজের নির্দেশ দেননি—এমন যুক্তির বিষয়ে আবু সাঈদ খান বলেন, নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্ম ঠেকাতে না পারা এবং দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারা মূলত তাঁরই বড় ধরনের ব্যর্থতা ছিল।
দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়ার কারণে পরবর্তীতে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের ফলেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত একটি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান ঘটা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল বলে তিনি নিজের বক্তব্যে মন্তব্য করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, তাদের এই জাদুঘর এমন একটি উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করতে কাজ করছে যেখানে ভিন্নমতের মানুষ একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন।
সব পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে তার ভিত্তিতে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোই তাদের লক্ষ্য এবং কোনো সিদ্ধান্তই জোর করে কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
এহসান মাহমুদ আরও জানান যে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের সেই সময়টিতে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় নির্দেশে দেশের সমস্ত সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সে সময় দেশে মাত্র একটিমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল এবং চারটি দৈনিক পত্রিকা চালু ছিল, যার প্রতিটিই ছিল সম্পূর্ণরূপে সরকার নিয়ন্ত্রিত মাধ্যম।
ওই নির্দিষ্ট সময়কালের বিভিন্ন নির্বাচনী অনিয়ম এবং নানা ধরনের তথ্য গোপনের চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোও তিনি আজকের আলোচনায় বিশদভাবে তুলে ধরেন।
দেশের গণতান্ত্রিক সংকটের দীর্ঘ ইতিহাস সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অতীতের সমস্ত ভুলত্রুটি ও অভিজ্ঞতা থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সঠিক পথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা