
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে অন্যতম বড় অনুঘটক ছিল কারফিউ জারি করা। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানিতে ১৩তম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এমনটাই দাবি করেছেন এস এম সায়েম।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষী এস এম সায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি গত জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর অঞ্চলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সায়েম আদালতকে জানান, সেসময়ে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা না হলে হয়তো এত বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না। আর এই কারফিউ বাস্তবায়নের নেপথ্যে প্রধান পরিকল্পনাকারী বা কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
আন্দোলন চলাকালীন নিজের ওপর চালানো নিপীড়নের কথা তুলে ধরে সায়েম বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে তাঁকে আটক করার উদ্দেশ্যে একাধিকবার তাঁর বাসভবনে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাঁর বাসার একটি দেয়ালে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সেটিকে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল।
সেদিনের বিভীষিকাময় স্মৃতির কথা উল্লেখ করে সাক্ষী জানান, তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে বলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেই ভয়ংকর স্মৃতিগুলো আজও তাঁকে মানসিকভাবে তাড়া করে বেড়ায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
সায়েম আদালতকে জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গভীর রাতে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়েছিল।
সেদিনের সেই কথোপকথনে ওই দুই নেতা আন্দোলনকারীদের দমনের উদ্দেশ্যে কারফিউ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে জানান সায়েম। পরবর্তীতে সে রাতেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে কারফিউ জারির ঘোষণা দেন এবং 'শ্যুট অ্যাট সাইট' অর্থাৎ দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেন।
জবানবন্দির শেষ পর্যায়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব অপরাধীর কঠোর বিচার দাবি করেন সাক্ষী এস এম সায়েম।
এ ছাড়াও তিনি সহিংসতায় নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান এবং একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যদানকারী সব সাক্ষীর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করার আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের দিন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের দুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।