
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র দ্বন্দ্ব ও লড়াইয়ের কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পঁচিশ জন নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারাচ্ছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে।
জনবহুল জনপদে ড্রোন ও দূরপাল্লার মারণাস্ত্রের যথেচ্ছ প্রয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও চিকিৎসালয়ের মতো সাধারণ মানুষের অবাসস্থলগুলোতে হামলা পরিচালনার ফলে নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পতিত হয়েছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই প্রযুক্তিভিত্তিক সামরিক সরঞ্জামাদির প্রয়োগ। যুদ্ধের মাঠে এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সংঘাতের সামগ্রিক ঝুঁকিকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এতকিছুর পরেও চরম বিপর্যয় ও প্রতিকূল পরিবেশের মাঝেও নারীরা নানাভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
কিন্তু জাতিসংঘের সদ্য প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে পৃথিবীজুড়ে পরিচালিত মোট সাতান্নটি শান্তি প্রক্রিয়ার টেবিলে মাত্র পাঁচ শতাংশ আলোচক ছিলেন নারী। তুলনামূলকভাবে এর আগের বছর এই হার ছিল সাত শতাংশ।
অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সামরিক খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে দুই দশমিক নয় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
অথচ একই সময়ে তীব্র অর্থ ও তহবিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সংকটপীড়িত অঞ্চলগুলো। এর ফলে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় চল্লিশ শতাংশ নারী সংগঠন চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন এক উদ্বেগজনক ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী নারী ও কন্যাশিশুদের জীবন সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
পাশাপাশি, সকল প্রকার শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নারী-নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগগুলোতে টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধির জোরালো তাগিদ জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা