
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সহিংসতায় এক স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ মোট তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন এবং এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
গত মঙ্গলবার এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক এই মারামারি ও বোমাবাজির ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার পর পরই দ্রুত প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ঘটনার রাতেই খাসেরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এই রক্তক্ষয়ী হামলার জন্য তারা সরাসরি তাদের প্রতিপক্ষ শামীম গাজীর অনুসারী ও পক্ষকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত শামীম গাজীকে আটক করে। এর পর দিন গতকাল মঙ্গলবার তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে আটক সাইফুল ইসলাম সুজন চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সুকৌশলে ওই ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়েছিল।
সাইফুল আরও দাবি করেন, আসিফ নামের এক ব্যক্তি এবাদ উল্যা গাজীকে হত্যার মূল উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত আসিফ ঢাকায় তার সঙ্গেই ফুটপাতে টুপি বিক্রির ব্যবসা করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি সাইফুল ইসলাম সুজন স্পষ্ট জানান যে, শামীম গাজী কিংবা এবাদ উল্যা গাজীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাদের সঙ্গে তার কোনো পূর্বপরিচয় নেই।
আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় দাস গণমাধ্যমকে জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অপর এক আহত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, ঘটনার সময় হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজনকে স্থানীয় জনতা ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখান থেকে একটি বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। ওসি আরও জানান, এই সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা