
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার 'বি' ইউনিটের প্রশ্নে বাংলা বিষয়ে বিশ, ইংরেজি বিষয়ে বিশ, সাধারণ গণিতের জন্য বিশ, সাধারণ জ্ঞানে পনেরো এবং গাণিতিক যুক্তির অংশে পাঁচ নম্বরের মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।
বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতি নিতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবোর্ড বইয়ের পাশাপাশি ব্যাকরণ অংশের জন্য মুনীর চৌধুরীর গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে। এছাড়া বাজারে উপলব্ধ উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অন্য ব্যাকরণ বইগুলোও সহায়তা নিতে পারেন পরীক্ষার্থীরা।
ইংরেজি অংশের ক্ষেত্রে মানসম্মত ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডার চর্চা করতে হবে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনার মাধ্যমে। এই অংশে একটি দীর্ঘ ও মানসম্মত অচেনা অনুচ্ছেদ বা আনসিন প্যাসেজ থাকে, যেখান থেকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়।
প্যাসেজ থেকে উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা বাকি প্রশ্নগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। তাই কৌশলগতভাবে যে প্রশ্নগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম সময় ব্যয় হয়, সেগুলোর সমাধান আগে সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়।
সাধারণ গণিতের প্রশ্নগুলো মূলত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত পাঠ্যবইয়ের অনুশীনী থেকেই নির্ধারিত হয়। বিশেষ করে সাধারণ বীজগণিত, সেট এবং শতকরা সংক্রান্ত অংকগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে।
সাধারণ জ্ঞান অংশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি, খেলাধুলা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক নানা প্রশ্ন রাখা হয়। এর প্রস্তুতির জন্য বাজারে প্রচলিত নির্ভরযোগ্য সহায়িকা বইগুলো নিয়মিত চর্চা করা আবশ্যক।
গাণিতিক যুক্তি বা আইকিউ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই, কারণ এটি মূলত নিয়মিত চর্চা এবং নিজস্ব বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করে।
অন্যদিকে কলা অনুষদভুক্ত 'সি' ইউনিটে বাংলায় বিশ, ইংরেজিতে বিশ এবং সাধারণ জ্ঞানসহ বিভাগসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চল্লিশ নম্বরের পরীক্ষা হয়ে থাকে। এই ইউনিটে বাংলা ও ইংরেজির প্রস্তুতির জন্য 'বি' ইউনিটের কৌশলগুলোই অনুসরণ করা যথেষ্ট।
ইংরেজির ক্ষেত্রে বিশেষ করে অ্যানালজি বা সাদৃশ্যমূলক প্রশ্নও যুক্ত থাকে, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করা দরকার। এই ইউনিটে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি জটিলতায় পড়েন বিভাগসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অনুধাবন করতে গিয়ে।
'সি' ইউনিটে ইতিহাস, দর্শন, প্রত্নতত্ত্ব, সাংবাদিকতা, বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং তুলনামূলক সাহিত্যতত্ত্ব থেকে বিভাগভিত্তিক প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এখানে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো ইংরেজিতে প্রণয়ন করা হয়।
ইংরেজি ভাষার প্রশ্নগুলো সহজে অনুধাবনের জন্য বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক ভালোভাবে পর্যালোচনা করে ধরন বুঝে নিতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত শিফটভিত্তিক মূল্যায়ন হয়ে থাকে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা আলাদাভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি শিফটের জন্য প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ পৃথকভাবে তৈরি করা হয়, ফলে এক শিфটের সঙ্গে অন্য শিফটের প্রশ্নের মিল থাকে না।
এ ছাড়া চলতি বছর 'বি' ইউনিটের অধীনে আইন অনুষদের পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত থাকায় এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লড়াইয়ে সফলতা পেতে হলে পরিপাটি প্রস্তুতির পাশাপাশি পরীক্ষাকক্ষে মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা অত্যন্ত অপরিহার্য। কোনো একক বইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গভীরভাবে পড়া উচিত।
বিভিন্ন বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বুঝতে হবে কোন প্রতিষ্ঠান কোন টপিকের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে এবং সে অনুযায়ী বিষয়গুলো বারবার পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
দেশ ও বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির আপডেট পেতে নিয়মিত জাতীয় সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও ফিচারের শিরোনামগুলো দেখে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো বিশদভাবে পড়া যেতে পারে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা বা মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এর মাধ্যমে নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয় এবং সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উত্তরপত্র পূরণের সময় পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভুল উত্তরের জন্য নেতিবাচক নম্বর কেটে নেওয়ার কবলে পড়তে না হয়।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, এই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই জীবনের একমাত্র বা চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এটি কেবল একটি নতুন পথের সূচনা মাত্র। তাই কোনো প্রকার হতাশা না রেখে সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা