
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যকার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করার অভিপ্রায় নিয়ে এবং দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বেশি সুদৃঢ় করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের সম্মানিত মন্ত্রী লিউ হাইসিং। গুরুত্বপূর্ণ এই ত্রিদিনের ঝটিকা সফরে বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি এবং নতুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিসরে বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও হৃদ্যতা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি দ্বিমুখী বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া, দেশের দ্রুত শিল্পায়ন এবং জ্বালানি খাতভিত্তিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রাধান্য পেতে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও চীনা মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। একই দিন দুপুরবেলা রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি প্রধান বক্তা হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করবেন। ঠিক একই অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশ–চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আজকের কর্মসূচির শুরুর দিকে তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পবিত্র সমাধিস্থল সশরীরে পরিদর্শন করে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন।
কূটনৈতিক অঙ্গনের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা যাচ্ছে যে, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর বেইজিং থেকে ঢাকায় পা রাখা প্রথম শীর্ষস্থানীয় ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা হলেন এই লিউ হাইসিং। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ওই ঐতিহাসিক সফরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার মধ্যে খাস করে বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলশ্রুতিতে, বর্তমান এই সফরে সেই পূর্বের সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার নিয়মিত যোগাযোগের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সহযোগিতার একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।
গত জুন মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত ফলপ্রসূ শীর্ষ বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকহারে জোরদার করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। উক্ত ইশতেহারে দুই দেশের সরকারপ্রধান, জাতীয় আইনসভা এবং প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বহুগুণ বাড়ানো, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় অব্যাহত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুশাসনসংক্রান্ত নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও কৌশল উভয় পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান করার বিষয়ে উভয় দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মত হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়টি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল চীন সফরের মাধ্যমেই মূলত বিএনপি ও সিপিসির এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একটি মজবুত ও নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করেছে। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার হাত ধরেই রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ও প্রশস্ত সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সম্মানিত চীনা মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের বর্তমান এই ঝটিকা সফরে মূলত সেই আগের সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে, উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, নিয়মিত প্রতিনিধিদল আদান-প্রদান, রাজনৈতিক ও দলীয় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সুনির্দিষ্ট গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
এই সফরের অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণীয় কর্মসূচি হলো বাংলাদেশ–চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ নামক নতুন প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। মূলত এই বিশেষ কেন্দ্রটির মাধ্যমেই দুই দেশের রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাঝে রাষ্ট্র পরিচালনা, টেকসই উন্নয়ন, সঠিক নীত নির্ধারণ এবং সুশাসন বজায় রাখার নানা কৌশল ও অভিজ্ঞতা পারস্পরিকভাবে বিনিময়ের এক দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক দুই শীর্ষ নেতার সমাধিস্থল পরিদর্শনের মতো বিশেষ কর্মসূচিটি এই কূটনৈতিক সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য ও গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বেইজিংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির এই জ্যেষ্ঠ নেতার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাবেক শীর্ষ নেতাদের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করার এই ঘটনাটি মূল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চীনের সুদৃঢ় সম্পর্কের গভীরতার একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অত্যন্ত চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এর বিশাল কৌশলগত ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে বেইজিংয়ের কাছে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যার ফলে বাংলাদেশের সরকারব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরও ঢাকার সঙ্গে আগের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখার বিষয়ে শুরু থেকেই দারুণ আগ্রহী রয়েছে পরাশক্তি চীন।
বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় গত বছর বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকেই চীনের দলীয় কূটনীতিতেও সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আকস্মিক পতনের পর থেকেই বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি তথা এনসিপি এবং দেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী ইসলামি দলের সঙ্গে অত্যন্ত সন্তর্পণে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং।
গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের অত্যন্ত প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। পরবর্তীতে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর শফিকুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। ঠিক একই মাসের ভেতরে দেশের অন্যতম প্রধান ইসলামি দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বিভিন্ন স্তরের চীনা প্রতিনিধিদের যোগাযোগ সাধিত হয়।
এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা কয়েকটি ইসলামি দলের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সফর করেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সুনির্দিষ্ট আমন্ত্রণে আয়োজিত ওই বিশেষ সফরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য সমমনা ইসলামি দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে একটি তরুণ প্রতিনিধিদল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম, দেশের সার্বিক উন্নয়ন অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে সেই বৈঠকে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল।
এর কিছুকাল পরে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সমানভাবে বাড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী। একই সঙ্গে বিগত প্রায় এক দশক ধরে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সরাসরি বাধার কারণে বিএনপি এবং জামায়াতের মতো দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের স্বাভাবিক যোগাযোগ যে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, সে বিষয়টিও তিনি অকপটে স্মরণ করেছিলেন।
উপরোক্ত এসব নানামুখী কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চীন কেবল কেবল সদ্য ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে নিজেদের সীমিত রাখেনি, বরং সমগ্র রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন মতাদর্শের প্রভাবশালী পক্ষগুলোর সঙ্গেও তাদের যোগাযোগের পরিসর ব্যাপকভিত্তিক করেছে। তবে বর্তমান সফরে প্রধানত বিএনপি ও নতুন সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও অধিক কার্যকর এবং একটি সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়টি লিউ হাইসিংয়ের এই সফরে অত্যন্ত বিশেষ গুরুত্ব লাভ করবে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের এই রাজনৈতিক যোগাযোগ অবশ্য একবারে নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনকালেও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বিশেষ করে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের স্মরণীয় ঢাকা সফরের মধ্য দিয়েই মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একটি মজবুত কৌশলগত সহযোগৃতির অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বহুগুণ বাড়ানোর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও বেশি সম্প্রসারণের নানা বিষয় সেই সমঝোতা স্মারকের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের বড় বড় মেগা অবকাঠামো প্রকল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত, জ্বালানি খাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা খাতে চীনের আর্থিক ও কারিগরি অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এমনকি ২০২৪ সালের মে মাসের দিকেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চৌদ্দ-দলীয় জোটের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল চীন সফর করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে সেই সময়ে দুই দেশের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবল সুনির্দিষ্ট সরকারি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা বিভিন্ন দলীয় পর্যায়েও অত্যন্ত সুদৃঢ় এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে চীন অত্যন্ত সুকৌশলে বাংলাদেশের নতুন এই রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে বহুমুখী সম্পর্কের পরিধি বহুগুণ বিস্তৃত করেছে। বর্তমান সময়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং বিভিন্ন ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের এই চলমান যোগাযোগের ধারাবাহিকতা মূলত সেই পরিবর্তিত কূটনীতিরই এক সুস্পষ্ট ও বাস্তব অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।