
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাষ্ট্রীয় খরচ নির্বাহের জন্য দেশের সরকারকে কেন অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যাংকঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে, সেই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের সুচিন্তিত ও গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আয়ের সামর্থ্যের তুলনায় খরচ অনেক বেশি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
যথাযথ রাজস্ব আয় অর্জিত না হওয়ার ফলেই সরকারকে এমন বেশি মাত্রায় ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া নতুন বেতনকাঠামো চালুর বাড়তি আর্থিক চাপও এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম ভাগের শেষ প্রান্তে সরকারের ওপর খরচের চাপ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি থাকে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই বিশেষ আর্থিক চাহিদার কারণে সরকারকে সাধারণত অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয় বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার মোট ষাট হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে।
তবে এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পূর্বে ইস্যুকৃত বিভিন্ন বিল ও বন্ডের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা পরিশোধও করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. মো. এজাজুল ইসলামের মতে এই পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক।
এর ফলে সামগ্রিক বাজারে মুদ্রা সরবরাহ হ্রাস পাবে এবং একই সঙ্গে রিজার্ভ মানির পরিমাণও কমে যাবে।
এই মুদ্রা সংকোচনমূলক প্রভাবের কারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতির ওপর এর খুব একটা নেতিবাচক বা বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা