
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরায় নিজেদের দখলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিজেদের এই ন্যায্য দাবি আদায় নিশ্চিত করতে এর আগেও তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এর অংশ হিসেবে গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট ওই সিগন্যাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
মাত্র বিশ মিনিটের ওই আকস্মিক সড়ক অবরোধের ফলে ব্যস্ততম ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের সাফ কথা, আলোচিত এই পুরোনো গবেষণা মাঠটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব সম্পত্তি। কৃষিবিষয়ক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে অবিলম্বে এই মাঠটি তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবি মেনে না নেয়, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কঠোর ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই সভা থেকে শিক্ষার্থীরা সব স্তরের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর থেকে সব ধরনের একাডেমিক ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। পরবর্তীতে একই দিন রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে বিভিন্ন ব্যাচের আন্দোলনকারীরা সমবেত হন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এই কঠোর কর্মসূচির ফলস্বরূপ আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত রয়েছে।
মূলত গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তздаরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার দিন ওই মাঠে সচিবালয় ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জোরপূর্বক জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। এর ঠিক পরের দিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের ভেতরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
২৯ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করার পরপরই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জাতীয় যুবমেলাসহ সেখানে আয়োজিত সব ধরনের মেলা স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তবে মাঠের বিদ্যমান স্থাপনাগুলো পুরোপুরি অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়ের করার তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ নভেম্বর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে ওই মাঠে লাঙল দিয়ে চাষ করে নিজেদের দখলে নিয়ে নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা