
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন পুনরায় চালু করার সুনির্দিষ্ট দাবিতে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। এই অবরোধের ফলে খুলনার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রার উদ্দেশ্যে রেলওয়ে স্টেশনে এসে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশনেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হন তারা। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে রেলপথ অবরুদ্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেকের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। আন্দোলনরত এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে ওই স্টেশনে নতুন স্টেশনমাস্টার নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের উত্থাপন করা অন্যান্য দাবিগুলোও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
এই বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান এবং আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদসহ এলাকার অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় তিন ঘণ্টার টানা অবরোধ কর্মসূচি শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা