
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিচারিক আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মাদকদ্রব্য বহনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে আর্থিক অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্বের একটি অভিযানে এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তল্লাশী চালিয়ে তাঁর নিকট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত মাদকদ্রব্য আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাঁর হাতে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর তল্লাশি চালান। সেখানে প্লাস্টিকের পলিথিনে অত্যন্ত সতর্কভাবে মোড়ানো অবস্থায় ১০১ পিস বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করেন তাঁরা।
এই অবৈধ আটকের ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই দপ্তরের পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্ত সমাপ্ত হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এই রায়ের আইনি দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
আদালতের বিজ্ঞ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শামিম রেজা ডালিম গণমাধ্যমকে রায়ের বিবরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে এই কঠোর সাজার রায় দেওয়া হয়েছে।
পিপি মহোদয় তাঁর বক্তব্যে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডের বিবরণ দিয়ে জানান, এই মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত জরিমানার অর্থ পরিশোধের বিষয়েও নির্দেশনা দেন। সরকারি কৌঁসুলি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নির্ধারিত এই জরিমানা অনাদায়ে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও অতিরিক্ত এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা