
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) তিন জওয়ান। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি অফিশিয়াল যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি তাদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এই আকস্মিক ও সহিংস আক্রমণে এক সহকারী কমান্ড্যান্টসহ মোট তিনজন নিরাপত্তা জওয়ান আঘাত পেয়ে জখম হন।
এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিন জন নারীসহ মোট নয় জন গ্রামবাসীকে আটক করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই সহিংসতায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরও অন্তত দশ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই পলাতক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে জোরদার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আটক করা সেই নয় জন ব্যক্তিকে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। পাশাপাশি, ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ঠিক পরপরই বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) প্রিন্সি রানী নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের একটি দল নিয়ে পুরো এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন।
এদিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা। তিনি সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক হামলা বা সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর এই ধরনের আক্রমণকে অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের একটি বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তাঁরবার্তায় আরও যোগ করেছেন যে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই অপরাধের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
জড়িতদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচার অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা সর্বদা সর্বোচ্চ সম্মান এবং নিরাপত্তার দাবিদার।
বিএসএফ জওয়ানদের ওপর হামলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র উত্তাপ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ত্রিপুরা বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং একই সঙ্গে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী এই বর্বরোচিত হামলার জোরালো ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
তবে সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ চোরাচালান রোধে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এই বিরোধী নেতা। তিনি গণমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সিপাহীজলা জেলায় চোরাচালানের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড নতুন কোনো বিষয় নয়।
তাঁর দাবি, এ ধরনের বেআইনি কারবারের সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, তা স্থানীয় এলাকাবাসী থেকে শুরু করে সবার কাছেই পরিষ্কার। শাসকদলকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের প্রায় পুরো অংশটিই হয় সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত, নতুবা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের অদৃশ্য ছায়াতলে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিশেষে বিরোধীদলীয় নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি জানিয়েছেন যে, এই হামলার ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত অর্থে যারা মদদ জুগিয়েছে, তাদের অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা