
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শিক্ষার্থীদের তীব্র অনাস্থার মুখেই উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গঠিত বিশেষ তদন্ত দল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর।
তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবারই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল বলে জানান অব্যাহতি নেওয়া এক শিক্ষক।
তবে গত সোমবার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয় যে চলমান এই তদন্ত দলের প্রতি তাদের ন্যূনতম আস্থা নেই।
শিক্ষার্থীদের মনে যেহেতু এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তাই তাদের দেওয়া রিপোর্টের ওপরও ভরসা রাখা যায় না বলে মত দেন ওই প্রক্টর।
এমন প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা উভয়েই তদন্ত প্যানেল থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
গতকালেই বিকেলের দিকে তাঁদের স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক অব্যাহতিপত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্ত দলের প্রধান মো. আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, তাঁদের নির্ধারিত অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার কাজ প্রায় নিরানব্বই ভাগ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।
ছাত্রছাত্রীরা যেহেতু এই প্যানেলের ওপর ভরসা রাখতে নারাজ, সে কারণে তাঁদের প্রস্তুত করা তদন্ত প্রতিবেদন আর জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আগামী দিনে এই জটিল সমস্যার সুরাহা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় আলোচনা সাপেক্ষে এই বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন বলে জানান প্রধান সমন্বয়ক।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, গত সোমবার তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে যে তদন্ত দলের নিরেপক্ষতা নিয়ে পড়ুয়াদের মনে সংশয় রয়েছে।
তিনি ছাত্রছাত্রীদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন যে যেকোনো জটিল বিষয় নিয়ে সরাসরি তাঁর কাছে আসার সুযোগ রয়েছে এবং তিনি অভিভাবকসুলভভাবে তা দেখভাল করবেন।
অভিযুক্ত ছাত্রের পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের দায়িত্বে থাকলেও একই অনুষদের শিক্ষকদের তদন্তে রাখার বিষয়টি তাঁর মাথায় আসেনি বলে জানান অধ্যক্ষ।
বিদ্যালয়ের ভেতরের কোনো শিক্ষক যাতে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করতে না পারেন, সেই সদুদ্দেশ্য থেকেই মূলত বাইরের এই শিক্ষকদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
উক্ত দুই সহকারী প্রক্টর যেহেতু স্বেচ্ছায় তদন্ত প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তাই বাধ্য হয়েই নতুন করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
নতুন গঠিত এই কমিটিতে যাতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ না থাকে, সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অনুষদ থেকে শিক্ষক নেওয়ার ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে আপত্তিকরভাবে বদলে ফেলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
সহপাঠী এক ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীদের নানাভাবে উত্যক্ত করার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অশালীন বার্তা ও ছবি ছড়িয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা শুরুতেই এই হয়রানির কথা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা কোনো ধরনের প্রতিকার বা ন্যায়বিচার পায়নি।
ঘটনার এক পর্যায়ে গত ৭ অক্টোবর অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে উপস্থিত হন।
এর পরদিন দশজন ছাত্রীকে আলাদা একটি কক্ষে বসিয়ে জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয় এবং ডিজিটাল প্রমাণসংবলিত একটি মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
প্রতিবাদী ছাত্রীদের ক্লাস ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয় এবং পরবর্তীতে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।
শ্রেণিকাফে স্বাভাবিক পাঠদান থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি ২৫ দিনের বেশি সময় ধরে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র বা টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা