
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ব্যক্তিগত টেলিফোনে নজরদারি ও গোপন তথ্য চুরির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তির যোগাযোগের গোপনীয়তা ভঙ্গের এই ঘটনাটিকে সরকারপ্রধানের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনবিরোধী নীতিমালার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে এবং তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
এমতাবস্থায় দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন রাষ্ট্রপ্রধান। শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন শেয়ার বিক্রির হিড়িক, স্থানীয় মুদ্রার মানের ধারাবাহিক পতন এবং আন্তর্জাতিক সূচক প্রদানকারী সংস্থা এমএসসিআইয়ের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের অবনমন নিয়ে পাওয়া সতর্কবার্তার মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
রাষ্ট্রের প্রধানের ফোন সুরক্ষায় বড় ধরনের ত্রুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ আইনমন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্রা। একটি আলাদা সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান যে, আটকদের সুনির্দিষ্ট মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। তাছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরো ঘটনাটির তদন্ত বর্তমানে অত্যন্ত প্রাথমিক ধাপে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্রা। বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরে গিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে এবং সত্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা