
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজিত হওয়ায় স্টেডিয়ামের গ্যালারি পূর্ণ থাকবে হাজারও দর্শকের উপস্থিতিতে, যারা নিজেদের পছন্দের দলের সমর্থনে গ্যালারিতে জোরালো স্লোগান দেবেন। এমন পরিস্থিতিকে বাড়তি মানসিক চাপ হিসেবে না দেখে বরং তা থেকে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।
একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে এই ফুটবলার উল্লেখ করেন যে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার সময় দলের ওপর কিছুটা চাপ থাকা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ধরনের চাপের পরিবেশ থেকেই পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত ও চমৎকার সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।
জাতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় আরও যোগ করেন যে খেলোয়াড়দের সব সময় এই বিষয়ে পূর্ণ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যে দেশের ফুটবলপ্রেমী সাধারণ মানুষ কী ধরনের সাফল্য প্রত্যাশা করছেন এবং কী কারণে তারা দলের ওপর প্রত্যাশার পারদ চড়াচ্ছেন। দর্শকদের মূল চাহিদা ও চাওয়া হলো মাঠে প্রতিটি ম্যাচ জয় করা এবং শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ট্রফি নিজেদের ঘরে তোলা।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা দল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তপু জানান যে তাদের স্কোয়াডে বর্তমানে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ জন প্রবাসী ফুটবলার যুক্ত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিবর্তনের ফলে লঙ্কান দলটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উদ্দীপ্ত ও তরতাজা ফুটবল প্রদর্শন করছে।
প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে কোনোভাবেই সহজ বা দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে নারাজ তপু বর্মণ। লঙ্কানদের বিপক্ষে আসন্ন এই ম্যাচটিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই নিচ্ছেন এবং বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন যে নিশ্চিতভাবেই শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় পুনরায় ফিরে এসেছেন এবং তাদের বর্তমান দলটির সামর্থ্য আগের মতো ভঙ্গুর নেই। বর্তমান সময়ে তারা যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই সমানে সমান লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে।
এ প্রসঙ্গে লঙ্কানদের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তপু জানান যে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে পরিষ্কার দেখা যায় তারা ইতোমধ্যে ৯ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে এই ধরনের সাফল্য অর্জন করাটা মোটেও কোনো সাধারণ বা সহজ বিষয় নয়। আর এই কারণে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা দলের আত্মহত্যার স্তর বা আত্মবিশ্বাস যে আগের চেয়ে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
সূত্র: আজকের পত্রিকা