
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে ভুক্তভোগী নারী গ্রাহক নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে পৌঁছান। এ সময় অভিযুক্তরা নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তাঁর চেক বই থেকে একটি পাতা হাতিয়ে নেন এবং ডিপিএস স্কিম চালুর প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকটি ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর আদায় করে নেন।
পরবর্তীতে গত ৪ অক্টোবর হিসাবের বর্তমান স্থিতি যাচাই করতে ব্যাংকে গেলে তাকে জানানো হয় যে বর্তমানে সেখানে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা জমা রয়েছে। এই তথ্য শুনে তিনি চরমভাবে বিস্মিত হন এবং বাকি অর্থের বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।
ব্যাংকটির কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ তখন তাকে জানান যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিশেষ ফরমের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানকে একটি চেকের মাধ্যমে পঁচাশি লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগকারী নারগিস আক্তার স্পষ্ট ভাষায় জানান যে তিনি উল্লেখিত তারিখে ব্যাংকে উপস্থিত হননি এবং ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো ধরনের চেক হস্তান্তর করেননি।
পূর্বের ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের কর্মীরা প্রতারণার মাধ্যমে যে চেকটি রেখেছিলেন, সেই পাতাতেই পরবর্তীতে ভুয়া স্বাক্ষর ও কাঙ্ক্ষিত অঙ্ক বসানো হয়। এরপর প্রয়োজনীয় ফরম তৈরি করে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর রাজবাড়ী শাখায় অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে টাকাগুলো পাঠানো হয়।
এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখে অভিযুক্ত শওকত হাসান সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে পুরো পঁচাশি লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
বাদী নিজের বক্তব্যে আরও পরিষ্কার করেন যে তিনি কোনো রকম বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। গত ১ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে খোলা ওই কাল্পনিক কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরাসরি সহযোগিতায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা