
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মানবাধিকার হরণকারীরা যেন কোনোভাবেই নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারে, সেই বিষয়ে তীব্র সতর্কতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার। সাম্প্রতিক এক সংসদীয় বৈঠকে এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে ককাসের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে মানবাধিকার সুরক্ষায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সভাপতি ও অন্য সদস্যরা।
এ ছাড়া মানবাধিকার বিষয়ক সভা, সেমিনার কিংবা গবেষণামূলক কার্যক্রমে ককাসের সম্মানিত সদস্যরা কীভাবে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ককাসের সভাপতি ফাহিমা নাসরিন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে হুমাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান এবং মীর আহমাদ বিনকাসেম উপস্থিত ছিলেন।
তাদের পাশাপাশি বৈঠকে আরও অংশ নেন মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, মো. আবুল হাসনাত, জহরত আদিব চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম এবং আন্না মিনজ।
সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিটির সভাপতি ফাহিমা নাসরিন জানান, দীর্ঘ একটি সময় ধরে বাংলাদেশ এক শ্বাসরুদ্ধকর ফ্যাসিবাদের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের সেই অন্ধকার সময়ে দেশে গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এনকাউন্টারের নাটক সাজিয়ে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার মতো পৈশাচিক ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, নুরু ও জনিসহ দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষ এই বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছেন।
শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই বিভীষিকাময় ঘটনাগুলো এবং সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জনগণের সত্যিকারের ম্যান্ডেট বা রায়ের মাধ্যমেই বর্তমানে দেশে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফাহিমা নাসরিন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের আপামর জনসাধারণের বিশাল আশা ও আকাক্সক্ষাকে পুঁজি করেই এই ককাস তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সংসদের ভেতরে এবং বাইরের ময়দানে—সব জায়গাতেই এ দেশের মানুষের মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি বিষয় নিয়ে সোচ্চার থাকবে এই ককাস।
নাগরিকরা যেন স্বাধীনভাবে নিজেদের বাকস্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।
পাশাপাশি মানুষ যেন নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর গ্যারান্টি বা নিরাপত্তা পায়, সেই মৌলিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাবে ককাস।
সূত্র: আজকের পত্রিকা