
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসন্ন শীত মৌসুমে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মোট ১১টিতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় ইরানি গ্যাস কোম্পানি। এই সংকট মোকাবিলায় দেশটির সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে জাতীয় এই গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিমেন্টশিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমে। গত অক্টোবর মাসের শেষভাগ থেকেই সিমেন্ট কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে উৎপাদকদের বাধ্য হয়ে পরিবেশ দূষণকারী ভারী জ্বালানি তেল মজুত করার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে।
ভারী জ্বালানি তেলের ওপর এই নির্ভরতার কারণে পণ্য পরিবহন খরচসহ সার্বিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের খনি খাতটিতেও বর্তমানে বিস্ফোরক দ্রব্য, প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের তীব্র সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এরই মাঝে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে ইরানের রপ্তানি ৫৯ শতাংশ এবং ওমানে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ইরানি বর্ষপঞ্জির প্রথম ছয় মাসে গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় এই বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
স্থলপথে বাণিজ্যের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার মাধ্যমে তেহরান সরকার তাদের বৈদেশিক বাণিজ্য সচল রাখার নানামুখী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাণিজ্যের এই আংশিক চিত্রটি দিয়ে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যের পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারের কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্য দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর সতর্কতার অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অতীতে পূর্ববর্তী চুক্তি লঙ্ঘিত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো নতুন আলোচনার বিষয়ে তেহরান এখন সর্বোচ্চ সতর্ক এবং একই সঙ্গে হতাশার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা