
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিগত ১২ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই অপরাধের সময় প্রতারক চক্রের সদস্যরা অভিনব কায়দায় তাদেরই এক সহযোগীর হাতে হাতকড়া লাগিয়ে ইজিবাইকটির চালককে দ্রুত ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
গন্তব্যে যাওয়ার পথে সম্পূর্ণ ফাঁকা ও নির্জন একটি স্থানে পৌঁছানোর পর ওই চালককে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। এরপর জোরপূর্বক ইজিবাইকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছিনতাই করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এই চক্রটি।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ইজিবাইকচালক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি বা দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এই মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে ফরিদপুর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের মূল হোতা লিমন মিয়া এবং তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকের পর তাদের দেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তীতে শহরের রঘুন্দনপুর এলাকায় আরেকটি আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।
সেই অভিযানে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিমন মিয়ার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা, বোয়ালমারী থানা, রাজবাড়ীর পাংশা থানা, মাদারীপুর সদর থানা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্যামপুর থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে এগারোটি চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, অপর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধেও একাধিক অপরাধের রেকর্ড পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির শ্যামপুর থানা, গেন্ডারিয়া থানা এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা