
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার্থে এবং আইনের অপব্যবহার রোধে সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন শর্ত। সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করতে হলে এখন থেকে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের অপব্যাখ্যা এড়াতে সেগুলোর সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
আইনটির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে যাতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকামী কণ্ঠরোধ না হয়, সে বিষয়টি বৈঠকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, এই আইনে যেন কোনোভাবেই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধান যুক্ত করা না হয়। কোনো কনটেন্ট বা ডিজিটাল বিষয়বস্তু ব্লক কিংবা অপসারণ করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে এবং ব্লককৃত কনটেন্ট পুনরায় চালুর জন্য করা আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
কোনো গণমাধ্যম বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে তাদের আবশ্যিকভাবে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে। এছাড়া তাদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাবও বৈঠকে উত্থাপিত হয়। সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে, সেখানে গণমাধ্যমের সঠিক প্রতিনিধিত্ব কতটুকু থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে কীভাবে পরামর্শ করা যায়, সেসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
জাতিসংঘসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং মেটার মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থাপিত সংশোধিত খসড়া আইনটি সব অংশীজনের গঠনমূলক মতামত ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশের আলোকে পুনরায় যাচাই-বাছাই বা পরিমার্জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর পরিমার্জিত খসড়াটি জনসচেতনতা ও মতামতের জন্য অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাধারণ জনগণের সক্রিয় মতামত গ্রহণের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এই আইনটিকে আরও বেশি বাস্তবসম্মত, কার্যকর এবং বর্তমান সময়ের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বসম্মত গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বক্তারা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যেকোনো মূল্যে সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে দমন করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার মাঝে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই চূড়ান্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের গঠনমূলক ও ইতিবাচক মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে এবং খসড়াটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত ও তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। উক্ত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা