
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চুলের সঠিক বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সুগন্ধযুক্ত তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল অত্যন্ত চমৎকার ফলাফল দিয়ে থাকে। এই তালিকার মধ্যে মিষ্টি কুমড়ার বিচির তেল বা পাম্পকিন সিড অয়েল, ল্যাভেন্ডার তেল, রোজমেরি অয়েল, জোজোবা এবং পেপারমিন্ট অয়েল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা মাথার ত্বকের গভীর থেকে চুলের শিকড় শক্ত করতে এবং নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে সহায়তা করে।
আমাদের দৈহিক পুষ্টিতে জরুরি ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে তা সরাসরি চুলের স্বাভাবিক গঠনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মূলত আয়রন, ভিটামিন ডি, জিংক, ভিটামিন ই, ফোলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের অনুপস্থিতিই চুল ঝরে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে, ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করলে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
প্রতিদিন নিয়ম করে হাতের আঙুলের সাহায্যে মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে আলতোভাবে ম্যাসাজ বা মালিশ করলে রক্তবাহী কৈশিক নালীগুলো প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পায়। এই নিয়মিত ম্যাসাজের ফলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচলের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়, যা প্রতিটি চুলকে গোড়া থেকে আরও শক্ত ও স্বাস্থ্যবান করে গড়ে তোলে। আর এর ফলে চুল সহজে দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
চুল পড়ার আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপি চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি অভূতপূর্ব বিপ্লবের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে রোগীর শরীর থেকেই রক্ত সংগ্রহ করে সেখান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্লেটলেট আলাদা করে তা স্ক্যাল্পে ইনজেকশন বা সুচের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়, যা স্টেম সেলের মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করে নতুন চুল গজানোর গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমান সময়ে চুল সাজানোর নানা সরঞ্জাম যেমন হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার কিংবা কার্লিং আয়রন মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুলের ভেতরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে চুল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে সহজেই ভেঙে যেতে শুরু করে। তাই যেকোনো হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহারের সময় সবসময় তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা উচিত এবং তার আগে অবশ্যই একটি ভালো মানের হিট প্রটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা