
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন কংগ্রেসে কোনো ধরনের আগাম অনুমোদন না নিয়েই ইসরায়েলকে পাশে নিয়ে ইরানি ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছিল তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির নতুন কংগ্রেস চাইলে এই যুদ্ধ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ আটকে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। আগামী ১১ ডিসেম্বর তারিখে বর্তমান সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রণীত অর্থায়ন বিলের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে, যা ডেমোক্র্যাট দলের সামনে বড় একটি সুযোগ সৃষ্টি করবে।
যদিও এই বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক জেমস বয়েজের। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সামরিক সংঘাত চলমান থাকা অবস্থায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যদি সরাসরি ইরান কিংবা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থান করতে থাকেন, তবে এই সামরিক ব্যয় পুরোপুরি বন্ধ করা অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার হবে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের জীবন মারাত্মক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালে প্রণীত ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী, কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট এককভাবে সামরিক অভিযান শুরু করার এখতিয়ার রাখলেও, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া সেই অভিযান সাধারণত ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে চালিয়ে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এই আইনি কাঠামোর কারণেই চলমান ইরান যুদ্ধের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ ভেটো ক্ষমতা, যা প্রয়োগ করা হলে তা সফলভাবে অতিক্রম করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বেশ কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা