
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এলপি গ্যাসের দাম শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বনশ্রীর রাঁধুনী রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক আজিজুল ইসলাম গতকাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা এখানে কার্যকর হচ্ছে না।
আজিজুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁরা আগের মতোই চড়া মূল্যে ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য তাঁদের ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা গুনতে হচ্ছে এবং বাজারে দাম হ্রাসের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ মনির বাড়তি দামের এই পরিস্থিতির পেছনের কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এলপিজির সাপ্লাই চেইনের বিভিন্ন ধাপে এখনো নানা সংকট বহাল রয়েছে।
আগের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মনির জানান, একসময়ে ডিলাররা সরাসরি দোকানে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে যেতেন। অথচ বর্তমানে ডিলারদের পেছনে ধর্না দিয়েও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত দামে কেবল হাতে গোনা কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁদের তিন কোম্পানির সিলিন্ডারই কিনতে হয় প্রতি পিস ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যে।
ক্রয়মূল্য বেশি পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে তাঁদের এই সিলিন্ডারগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে।
এদিকে খুচরা বাজারে গ্যাসের তীব্র সংকটের কথা বলা হলেও, দেশের আমদানিসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে।
আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে মোট চাহিদার তুলনায় বরং অতিরিক্ত পরিমাণে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি আমদানি করা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার টন।
এছাড়া সর্বশেষ অক্টোবর মাসেও প্রায় কাছাকাছি সমপরিমাণ এলপিজি দেশের বাজারে আমদানি করা হয়েছে।
অথচ পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি মাসে সব মিলিয়ে এলপি গ্যাসের মোট চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা