
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশি সংস্কৃতির উপযোগী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই মডেল গড়ার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃহৎ ভাষাভিত্তিক এআই প্রযুক্তি নির্মাণের সম্ভাবনার দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্যসেবা খাত, শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমে এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচনা চলাকালে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এআই এবং ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ফুরিওসাএআই নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলাদা বৈঠকে দেশের ভেতরেই এআই প্রযুক্তির নিজস্ব সক্ষমতা ও দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন খাত এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অর্থাৎ পিপিপি কাঠামোর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে প্রতিনিধিদলটি। এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি কেবল সাধারণ প্রকল্প নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ করার মাঝেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী অংশীদার হিসেবে কাজ করার শক্তিশালী আগ্রহের কথা জানিয়েছে। দুই পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এখন দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি আলোচনা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও পূর্ণ সম্মতি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, খ্যাতনামা কোরীয় কোম্পানি ইয়ংওয়ানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পৃথক একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল শিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ উৎপাদনের খাতে বিনিয়োগের অফুরন্ত সুযোগগুলো তুলে ধরা হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে কোরিয়ান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ করা, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং তাদের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা