
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বরিশালের মুলাদী পৌর এলাকায় একটি ভবনের ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে সিয়াম নামের এক যুবক মারা গেছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মরদেহ দেখতে পান। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে সিয়ামকে চিনতে পেরে এক ব্যক্তি তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানান। এরপর নিহতের বাবা তছলিম সরদার দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে গিয়ে নিজের ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের চাচা (বাবার খালাতো ভাই) মো. রুহুল আমিন জানান, সিয়াম পূর্বে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে সেই চাকরিটি তাঁর চলে যায়।
চাকরি হারানোর পর থেকে পরিবার তাঁকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঘটনার দিন দুপুরে নিজ বাড়িতে খাবার খেয়ে সিয়াম ঘর থেকে বাইরে বের হন। পরে বিকেল চারটার দিকে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর নিথর দেহ দেখতে পান।
সিয়ামের বাবা তছলিম সরদার পরিষ্কার জানিয়েছেন, হাজি টাওয়ার বা থানা সড়ক সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের কোনো আত্মীয় বা পূর্বপরিচিত কেউ বাস করেন না। এমন একটি অপরিচিত স্থানে তাঁর ছেলে কী কারণে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁদের পরিবার সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বিস্তারিত জানিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, হাজি টাওয়ারের প্রথম ভবনের ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ভবনটির নিজস্ব এবং আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, সিয়াম সম্পূর্ণ একা সিঁড়ি বেয়ে ছাদের দিকে উঠছেন এবং পরবর্তীতে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন।
এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় মুলাদী থানায় ইতোমধ্যে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
ময়নাতদন্তের জন্য সিয়ামের মরদেহটি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা