
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পরিচালিত সাঁড়াশি মাদক, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিশেষ অভিযানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল এবং তা অব্যাহত থেকে গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলে।
পুলিশের সূত্র থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দীর্ঘ অভিযানে সর্বমোট ৬ হাজার ৮৫৭ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন জোরালো পদক্ষেপে অপরাধের মাত্রা কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন।
আটকদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর অপরাধীকে সুনির্দিষ্ট মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করার পাশাপাশি এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যেন তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হয়।
অন্যদিকে, বাকি ২ হাজার ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যেন কোনোভাবেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে অন্ধকার জগতের দিকে পা না বাড়ায়, সেই মূল লক্ষ্য নিয়েই এই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে যাতে কোনো নিরপরাধ সাধারণ ব্যক্তি কোনোভাবেই কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন। এই বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান আরও বলেন, কিশোর অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজে সার্বিক অপরাধপ্রবণতা কঠোরহস্তে রোধ করার ব্যাপারে জেলা পুলিশ অত্যন্ত বদ্ধপরিকর।
পরিশেষে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা