
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজশাহীর পদ্মার চর খিদিরপুর থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫০ বছর বয়সী মনিরুল ইসলামকে নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে আসেন তাঁর স্বজনেরা। কিন্তু জরুরি বিভাগের মূল ফটকে পৌঁছানোর পর ভেতরের ওয়ার্ডে নেওয়ার মতো কোনো ট্রলি বা হুইলচেয়ারের দেখা মেলেনি। রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রধান গেটের সামনে মাদুর পেতে রোগীকে শুইয়ে রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে একটিমাত্র ট্রলির খোঁজ করতে করতে চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করেন রোগীর সঙ্গের মানুষেরা।
শুধু মনিরুল ইসলাম একা নন, উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আসা অসংখ্য রোগী প্রতিদিন এই ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। জরুরি বিভাগের প্রবেশদ্বারে ট্রলির দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগী আনার পরও যথাসময়ে চিকিৎসাসেবা শুরু করা সম্ভব হয় না। এতে অনেক সময় রোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের ভরসাস্থল এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন নতুন করে আটশ থেকে এক হাজার রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। এছাড়া বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড মিলিয়ে সার্বিক সময়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে ট্রলি সংকটের মতো এমন নানা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা