
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চাঁদার টাকা না পাওয়ার জেরে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট এবং একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগে জানানো হয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির গুদাম বা ওয়্যারহাউস থেকে একটি সিসকো কোর ডিভাইস, একটি রাউটার এবং বিভিন্ন ক্ষমতার মোট ৯টি ডাহুয়া এনভিআর লুট করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি ১০ টেরাবাইট ক্ষমতার ৩৮টি হার্ডডিস্ক, একটি সার্ভার র্যাক, ৪০টি সিসি ক্যামেরা, আটটি সিপিইউ, আটটি মনিটর এবং একটি ল্যাপটপও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লুট হওয়া এসব ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি নির্দিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে অর্থাৎ রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুজন ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে চড়ে ওয়্যারহাউসে এসে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন।
সে সময় অপারেশন ম্যানেজারকে না পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং একপর্যায়ে সেখান থেকে চলে যান। কুরিয়ার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, এই পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও প্রমাণ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগে আরও প্রকাশ পায় যে, এই ঘটনার পর জুয়েল নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন আরেকটি কার্যালয়ে হামলা চালানো, ডাকাতি সম্পন্ন করা এবং সেটি দখলের পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানিয়ে দেন।
পরবর্তীতে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি ফোন করে সংঘটিত এই ডাকাতির পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ করেন আফসার উদ্দিন। এর আগে ক্যাপ্টেন ইমনের নামেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা